- Home
- West Bengal
- Kolkata
- ২০২৬-এর মহাযুদ্ধ: নবান্নে কি ফিরবেন মমতা? কী বলছে ‘দিদি’র গ্রহ-নক্ষত্র? ফাঁস হল তথ্য!
২০২৬-এর মহাযুদ্ধ: নবান্নে কি ফিরবেন মমতা? কী বলছে ‘দিদি’র গ্রহ-নক্ষত্র? ফাঁস হল তথ্য!
২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি পারবেন ক্ষমতা ধরে রাখতে? জ্যোতিষশাস্ত্রে তাঁর রাশিফল এবং গ্রহের অবস্থান নিয়ে কী ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে? বিস্তারিত পড়ুন এই প্রতিবেদনে।

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই উত্তপ্ত হতে শুরু করেছে রাজ্যের রাজনীতি। একদিকে টানা ১৫ বছরের শাসনভার ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ তৃণমূল কংগ্রেসের, অন্যদিকে ক্ষমতা দখলের মরিয়া লড়াইয়ে নামছে বিজেপি ও বাম-কংগ্রেস জোট।
আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোটগ্রহণ এবং ৪ মে ফলাফল ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের মনে এখন একটাই প্রশ্ন— ফের কি নবান্নে ফিরবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, নাকি পরিবর্তন ঘটবে বাংলার মসনদে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে রাজনৈতিক সমীকরণের পাশাপাশি চর্চায় উঠে আসছে জ্যোতিষ গণনাও।
জনমত সমীক্ষাগুলির দিকে তাকালে দেখা যাচ্ছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেসেরই পাল্লা কিছুটা ভারী। ‘আইএএনএস-ম্যাট্রাইজ’ (IANS-Matrize)-এর সমীক্ষা অনুযায়ী, তৃণমূল জোট ১৫৫-১৭০টি আসন পেতে পারে। আবার ‘ভোটভাইব সিএনএন-নিউজ ১৮’ (VoteVibe CNN-News18) তৃণমূলের জন্য ১৮৪-১৯৪টি আসনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে রাজনৈতিক এই হিসেব-নিকেশের বাইরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত রাশিফল ও দলের প্রতিষ্ঠা লগ্নের কোষ্ঠী নিয়ে জ্যোতিষীদের মধ্যে মিশ্র মত দেখা দিচ্ছে।
জ্যোতিষ শাস্ত্রীয় বিশ্লেষণে দেখা যায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মছকে মিথুন লগ্ন এবং মকর রাশি। বর্তমানে তাঁর কোষ্ঠীতে শনি ও বৃহস্পতির প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিছু জ্যোতিষীর মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মছকে সূর্য ও বুধের শক্তিশালী অবস্থান তাঁকে একজন দক্ষ কৌশলী ও অপ্রতিদ্বন্দ্বী জননেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
তবে ২০২৬ সালের নির্বাচনের সময় ‘অঙ্গারক যোগ’ (মঙ্গল ও রাহুর সংযোগ) তৈরি হচ্ছে, যা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
তৃণমূল কংগ্রেসের জন্ম কুণ্ডলী (১ জানুয়ারি, ১৯৯৮) বিচার করলে দেখা যায়, বর্তমানে দলের ওপর বৃহস্পতির মহাদশা ও রাহুর অন্তর্দশা চলছে। জ্যোতিষবিদদের মতে, এই গ্রহগত অবস্থানের কারণে তৃণমূল ফের ক্ষমতায় ফিরলেও পথ হবে অত্যন্ত কণ্টকাকীর্ণ। মীন রাশিতে শনির সাড়ে সাতির প্রভাবের ফলে বিজেপি-র পক্ষ থেকে প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হতে পারে শাসক দলকে।
অন্যদিকে, শনি যেহেতু ন্যায়ের দেবতা ও জনসাধারণের কারক, তাই শনির কুম্ভ থেকে মীন রাশিতে গমনের ফলে মমতা সরকারকে প্রশাসনিক চাপ ও জনগণের তীব্র স্ক্রুটিনির মুখোমুখি হতে হবে।
তবে বিপরীত সুরও শোনা যাচ্ছে কিছু ক্ষেত্রে। জ্যোতিষী নিশান্ত রাজবংশ ও অ্যাস্ট্রো রাজের মতো গণনাকারীরা মনে করছেন, গ্রহের ফেরে এবার মমতার হারের সম্ভাবনা প্রবল এবং বিজেপি ১৬০-১৬২টি আসন পেয়ে সরকার গড়তে পারে। অনেক জ্যোতিষীর মতে, ২০২৬ সালে বৃহস্পতি কর্কট রাশিতে তুঙ্গস্থ হওয়ায় ধর্মীয় ও আদর্শিক রাজনীতির প্রভাব বাড়বে, যা বিরোধী শিবিরের সহায়ক হতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিয়োগ দুর্নীতি, সিএএ-এনআরসি উদ্বেগ এবং নারী নিরাপত্তা— এই ইস্যুগুলি যেমন নির্বাচনের মোড় ঘোরাতে পারে, তেমনই অন্তিম রায় নির্ভর করবে বাংলার মানুষের ওপর।
জ্যোতিষশাস্ত্রে শনি ও বৃহস্পতির চক্র দীর্ঘমেয়াদী শাসনের ইঙ্গিত দিলেও তা লড়াই ও ত্যাগের মাধ্যমেই অর্জিত হওয়ার কথা বলছে। ৪ মে-র অগ্নিপরীক্ষায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভাগ্য নক্ষত্রের কৃপায় না জনগণের আশীর্বাদে প্রশস্ত হয়, সেটাই এখন দেখার।

