- Home
- West Bengal
- Kolkata
- অঘটনের আশঙ্কা! ভবানীপুরে শুভেন্দুর কাছে হেরে যেতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?
অঘটনের আশঙ্কা! ভবানীপুরে শুভেন্দুর কাছে হেরে যেতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?
২০২৬ সালের নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও শুভেন্দু অধিকারীর চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিশেষ বিশ্লেষণ। কেন এই আসনটি তৃণমূলের জন্য ঝুঁকির হতে পারে এবং পরাজয়ের ফল কী হতে পারে, তা জানতে পড়ুন এই প্রতিবেদন।

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের সবচেয়ে চর্চিত কেন্দ্র হতে চলেছে ভবানীপুর। ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয় রাজ্যের রাজনীতিতে এক বড় মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। ৫ বছর পর আবারও সেই একই প্রেক্ষাপট তৈরি হচ্ছে, যেখানে বিজেপি ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীকে দাঁড় করিয়ে তৃণমূল নেত্রীর সামনে এক ‘রাজনৈতিক ফাঁদ’ পাতার চেষ্টা করছে।

রাজনৈতিক সমীকরণ: কেন চিন্তায় তৃণমূল? ভবানীপুরকে দীর্ঘকাল ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নিরাপদ দুর্গ’ হিসেবে গণ্য করা হলেও সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান শাসকদলের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
২০২১ সালের উপনির্বাচনে মমতা এখানে প্রায় ৫৮,০০০ ভোটে জিতলেও, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ট্রেন্ড বলছে এই কেন্দ্রে তৃণমূলের লিড কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬,৫০০ ভোটে। অন্যদিকে, বেশ কিছু পুরসভা ওয়ার্ডে বিজেপি উল্লেখযোগ্যভাবে জমি শক্ত করেছে।
ভোটার তালিকার রদবদল ও জনবিন্যাস: ভবানীপুরের লড়াইয়ে বড় ফ্যাক্টর হতে পারে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া। তথ্য অনুযায়ী, এই কেন্দ্র থেকে প্রায় ৪০,০০০ ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে এবং আরও হাজার হাজার নাম এখনও পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন যে, এই প্রশাসনিক রদবদল নির্বাচনের স্বচ্ছতাকে প্রভাবিত করতে পারে। এছাড়া, এই কেন্দ্রের ৭৬ শতাংশ হিন্দু ভোটার এবং ২৪ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোটারের ভারসাম্য এবং উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও ওড়িশা থেকে আসা পরিযায়ী ভোটারদের অবস্থান ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
মমতা হেরে গেলে কী হতে পারে? যদি নন্দীগ্রামের মতো ভবানীপুরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরাজিত হন, তবে তার প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী:
১. নেতৃত্বের সংকট ও প্রতীকী পরাজয়: ভবানীপুর কেবল একটি আসন নয়, এটি মমতার রাজনৈতিক পুনরুত্থানের কেন্দ্র। এখানে পরাজয় মানে তাঁর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তায় বড় ধাক্কা এবং দলের অন্দরে তাঁর একচ্ছত্র আধিপত্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠা।
২. বিজেপি-র উত্থান: শুভেন্দু অধিকারী যদি মমতাকে দ্বিতীয়বার হারাতে পারেন, তবে তা বিজেপি-র জন্য কলকাতার বুকে বড় জয় হিসেবে গণ্য হবে এবং নবান্ন দখলের লড়াইয়ে তাদের অক্সিজেন দেবে।
৩. সরকার গঠনের জটিলতা: ২০২৬-এর মতামত সমীক্ষা অনুযায়ী তৃণমূল ১৪০-১৬০টি এবং বিজেপি ১৩০-১৫০টি আসন পেতে পারে। এই অবস্থায় মুখ্যমন্ত্রীর পরাজয় নৈতিকভাবে তৃণমূলকে কোণঠাসা করবে, এমনকি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
তৃণমূলের পাল্টা কৌশল: পরাজয়ের সম্ভাবনা রুখতে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কোমর বেঁধে নেমেছেন। তিনি ক্যাডারদের সতর্ক করে ভবানীপুরে ৬০,০০০-এর বেশি লিড নিশ্চিত করার লক্ষ্যমাত্রা দিয়েছেন। দুর্নীতি ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ছায়া কাটিয়ে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির ওপর জোর দিচ্ছে ঘাসফুল শিবির।







