কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে বিজেপির স্ট্যাম্প থাকার প্রমাণ দেখিয়ে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তরবঙ্গ সফরের আগে দমদম বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে তিনি কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে তীব্র আক্রমণ করেন।

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই কেন্দ্রীয় এজেন্সি ও জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে লাগাতার আক্রমণ শানিয়ে যাচ্ছেন তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গ সফরের আগে দমদম বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে তিনি একটি নতুন বিতর্কের সূত্রপাত করেন। তাঁর হাতে ছিল একটি খবরের কাগজের অংশ, যেখানে দেখা যাচ্ছে নির্বাচন কমিশনের একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বিজেপির স্ট্যাম্প বা সিলমোহর রয়েছে। এই প্রমাণ হাতে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, “ঝুলি থেকে বিড়াল বেরিয়ে পড়েছে”।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ

মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, এই স্ট্যাম্প বিতর্কের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে নির্বাচন কমিশন আসলে কার নির্দেশে এবং কার অঙ্গুলিহেলনে কাজ করছে। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের একটি চিঠি কেরলের সিপিএম সম্প্রতি সামনে এনেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে কমিশনের চিঠিতে বিজেপির স্ট্যাম্প রয়েছে। কমিশনের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে ‘ক্ল্যারিক্যাল মিসটেক’ বা যান্ত্রিক ত্রুটি বলে সাফাই দেওয়া হলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তা মানতে নারাজ। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এটি যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি একটি পরিকল্পিত ‘পলিটিক্যাল এজেন্ডা’?। এই ঘটনাকে তিনি একনায়কতন্ত্রের নগ্ন বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করে বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ জানান, “সামনাসামনি খেলুন না, পিছন থেকে কেন?”।

রদবদল নিয়েও ক্ষোভ

শুধু স্ট্যাম্প বিতর্কই নয়, রাজ্যে প্রশাসনিক ও পুলিশ স্তরে বড়সড় রদবদল নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী। নির্বাচনের ঠিক আগে মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি-র মতো শীর্ষ আধিকারিকদের সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে তিনি ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’ এবং ‘রাষ্ট্রপতি শাসন’ চাপানোর প্রচেষ্টার সঙ্গে তুলনা করেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, বাংলার ৫০ জনেরও বেশি অভিজ্ঞ আধিকারিককে সরিয়ে দিয়ে রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোকে পরিকল্পিতভাবে পঙ্গু করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

ভোটার তালিকা সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়া নিয়েও তাঁর আক্রমণের ধার কম ছিল না। সোমবার মাঝরাতে কমিশনের অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করার স্বচ্ছতা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, ষড়যন্ত্র করে বহু ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় দেশের সমস্ত বিরোধী রাজনৈতিক দলকে একজোট হওয়ার ডাক দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি আবেদন জানান, কোনো রঙ না দেখে সংবিধান ও গণতন্ত্র বাঁচাতে সবাইকে এই ‘একপেশে’ কার্যকলাপের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। উত্তরবঙ্গে নির্বাচনী প্রচার শুরুর আগেই মমতার এই আক্রমণ রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।