পূর্ব যাদবপুর থানার অন্তর্গত মুকুন্দপুর এলাকার অহল্যা নগরে বিএলও-র মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য। বৃহস্পতিবার সকালে একটি ঘর থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। মৃতের নাম অশোক দাস।
পূর্ব যাদবপুর থানার অন্তর্গত মুকুন্দপুর এলাকার অহল্যা নগরে বিএলও-র মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য। বৃহস্পতিবার সকালে একটি ঘর থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। মৃতের নাম অশোক দাস। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সকালে স্নানঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁকে দেখতে পান বাড়ির লোকেরা। উদ্ধার করে ইএম বাইপাসের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে চাপানউতোর। একটি অডিও ক্লিপও ভাইরাল হয়েছে। মৃতের স্ত্রী একজনের সঙ্গে কথোপকথনে জানিয়েছেন, ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর ঘনিষ্ঠ রাজু দিনের পর দিন হুমকি দিচ্ছিল অশোক দাসকে। যে কারণেই আত্মহত্যা করেছেন অশোকবাবু। বিজেপির কর্মী-নেতারা এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন।
এদিকে, বিএলও-র দেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা। তিনি বাড়িটি পরিদর্শন করেন ও মৃতের সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক ভাবে এটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, অশোক দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগর এলাকার বহড়ু হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর কর্মসূচিতে তিনি বিএলও হিসেবে কাজ করছিলেন। পূর্ব যাদবপুরের চিতকালিকাপুর এফপি স্কুলের ১১০ নম্বর বুথের বিএলও ছিলেন তিনি। ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। কীভাবে এই ঘটনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এমনিতে এসআইআর নিয়ে একাধিক অভিযোগ উঠেছে রাজ্যের শাসকদলের তরফে। কমিশনের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বহু জায়গায় বিএলও-রা প্রতিবাদ জানিয়েছে পদত্যাগ করতে চিঠি পাঠিয়েছেন। এছাডা়ও, কাজের চাপ সহ্য করতে না পেরে অনেকেরই মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ অভিযোগ উঠেছে। আত্মহত্যা করার মতো অভিযোগও সামনে এসেছে। গত কয়েকদিনে রাজ্যের কোথাও না কোথাও ঝামেলা হয়েছে। বুধবার মুর্শিদাবাদের ফরাক্কায় বিডিও অফিসে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় উত্তর দিনাজপুরের চাকুলিয়া। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চাকুলিয়ায় কাহাটা এলাকায় রাজ্য সড়ক অবরোধ করেন কয়েক জন। যারা এসআইআর শুনানিতে ডাক পেয়েছিলেন তাঁরাই মূলত এই বিক্ষোভের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এই বিক্ষোভকারীদের জন্য ব্যহত হয় যান চলাচল। রাজ্য সড়কে তীব্র যানজনটের সৃষ্টি হয়। এরই মধ্যে উত্তেজিত জনতার একাংশ স্থানীয় বিভিও অফিসে বিক্ষোভ দেখান। সেখানে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ।


