পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া বা এসআইআরের বৈধ নথি হিসাবে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকে গ্রহণ করা হবে না। জানিয়ে দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন।

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া বা এসআইআরের বৈধ নথি হিসাবে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকে গ্রহণ করা হবে না। জানিয়ে দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজকুমার আগরওয়ালকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিয়েছে তারা। এসআইআর-এর জন্য আগেই ১৩টি নথির কথা উল্লেখ করেছিল কমিশন, যেগুলি শুনানিতে দাবির সাপেক্ষে জমা দিতে পারা যাবে। যদিও পরে, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের বৈঠকে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকে বৈধ নথি হিসাবে গ্রহণ করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। তার পরে সিইও দফতর থেকে এই মর্মে নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরে চিঠি পাঠানো হয় বিষয়টি পরিষ্কার করার জন্য। কিন্তু মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকে বৈধ নথি হিসাবে গ্রাহ্য করার প্রস্তাব খারিজ করে দিল কমিশন।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে পাঠানো এক চিঠিতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) বলেছে যে তারা প্রস্তাবটি পরীক্ষা করেছে, কিন্তু দেখেছে যে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডটি বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার জন্য নির্ধারিত গ্রহণযোগ্য নথির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নয়। ইসি উল্লেখ করেছে যে, পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর পরিচালনার জন্য গত বছরের ২৭ অক্টোবর জারি করা নির্দেশিকা অনুসারে, মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকে যাচাইকরণের উদ্দেশ্যে একটি বৈধ নথি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় না। চিঠিতে বলা হয়েছে, উপরোক্ত বিষয় বিবেচনা করে, কমিশন মনে করে যে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকে একটি বৈধ নথি হিসেবে গ্রহণ করার প্রস্তাবটি মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।

নো-ম্যাপিং এবং এনুমারেশন ফর্মে তথ্যগত অসঙ্গতির জন্য ভোটারদের একাংশকে শুনানির জন্য ডাকছে কমিশন। শুনানিতে নির্ধারিত নথির মধ্যে যে কোনও একটি দেখাতে হবে সংশ্লিষ্ট ভোটারকে। এসআইআরের জন্য কমিশন যে ১৩টি নথির কথা বলেছে, সেগুলি হল ১) কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের দেওয়া পরিচয়পত্র, পেনশন পেমেন্ট অর্ডার, ২) ১৯৮৭ সালের ১ জুলাইয়ের আগের নথি, ৩) জন্মের শংসাপত্র, ৪) পাসপোর্ট, ৫) শিক্ষাগত শংসাপত্র, ৬) স্থায়ী বাসিন্দা শংসাপত্র, ৭) বনাধিকার শংসাপত্র, ৮) জাতিগত শংসাপত্র, ৯) জাতীয় নাগরিক পঞ্জিতে নাম, ১০) বংশলতিকার শংসাপত্র, ১১) সরকারের দেওয়া জমির নথি, ১২) আধার কার্ড ১৩) বিহারের এসআইআর নথি।

এমনিতে এসআইআর নিয়ে একাধিক অভিযোগ উঠেছে রাজ্যের শাসকদলের তরফে। কমিশনের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বহু জায়গায় বিএলও-রা প্রতিবাদ জানিয়েছে পদত্যাগ করতে চিঠি পাঠিয়েছেন। এছাডা়ও, কাজের চাপ সহ্য করতে না পেরে অনেকেরই মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ অভিযোগ উঠেছে। আত্মহত্যা করার মতো অভিযোগও সামনে এসেছে। গত কয়েকদিনে রাজ্যের কোথাও না কোথাও ঝামেলা হয়েছে।