শূন্য ভাঙার মরিয়া লড়াই! ২০২৬ ভোটে কোন কোন আসনে জয়ের স্বপ্ন দেখছে বামফ্রন্ট
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বামফ্রন্ট কি শূন্য আসনের গেরো কাটাতে পারবে, জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। ২০২১ সালে ভরাডুবির পর এবার উত্তরবঙ্গ, জঙ্গলমহল এবং সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় বামেদের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আগামী ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বামেদের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো গত ২০২১ সালের নির্বাচনে তৈরি হওয়া 'শূন্য' আসনের গেরো কাটানো। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং বিভিন্ন সূত্রের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বামেরা এবার সেই খরা কাটিয়ে বিধানসভায় প্রত্যাবর্তনের জন্য মরিয়া।
গত লোকসভা নির্বাচনে কোনো আসন না পেলেও বামেদের ভোট শতাংশে কিছুটা বৃদ্ধি এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন জনআন্দোলনে তাদের সক্রিয় উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সূত্র অনুযায়ী, ২০২৬ সালের নির্বাচনে বামেরা আর শূন্য থাকবে না এবং তারা কমপক্ষে ২০টি আসন পেতে পারে বলে সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। এই প্রত্যাবর্তনের মূলে রয়েছে একঝাঁক তরুণ মুখ এবং 'রুটি-কাপড়া-মাকান' অর্থাৎ কর্মসংস্থানের মতো মৌলিক ইস্যুগুলোকে সামনে রেখে করা আন্দোলন। বামফ্রন্ট ইতিমধ্যেই ১৯২ জন প্রার্থীর প্রথম তালিকা প্রকাশ করেছে, যেখানে তরুণ ও অভিজ্ঞ প্রার্থীদের মিশেল দেখা গেছে।
জেতার পরিস্থিতি রয়েছে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ আসন:
১. উত্তরপাড়া (হুগলি): বামেদের অন্যতম প্রধান মুখ এবং যুব নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় এই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁর লড়াইকে কেন্দ্র করে উত্তরপাড়ায় বামেদের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
২. দমদম উত্তর: জনপ্রিয় যুব নেত্রী দীপ্সিতা ধর এই আসনে লড়াই করছেন, যা বামেদের জেতার অন্যতম একটি বাজি।
৩. যাদবপুর: কলকাতার এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে প্রার্থী করা হয়েছে বর্ষীয়ান নেতা ও আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যকে। এখানকার ঐতিহাসিকভাবে বাম মনোভাবাপন্ন ভোটারদের ফেরানোই তাদের লক্ষ্য।
৪. পানিহাটি: তরুণ তুর্কি নেতা কলতান দাশগুপ্ত এই আসনে লড়াই করছেন, যা যুব সমাজের মধ্যে বামেদের আকর্ষণ বাড়িয়েছে।
৫. কালীগঞ্জ: গত উপনির্বাচনে সহিংসতার শিকার হওয়া পরিবারের সদস্য সাবিনা ইয়াসমিনকে প্রার্থী করে বামেরা এখানে আবেগ ও সংগঠনের জোর পরীক্ষা করছে।
৬. মহেশতলা: আইনজীবী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় এই আসনে বামেদের অন্যতম শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে উঠে এসেছেন।
জেলাভিত্তিক সম্ভাবনা: বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মুর্শিদাবাদ জেলায় বামেরা বেশ ভালো ফল করতে পারে, বিশেষ করে জলঙ্গী, ডোমকল, ভগবানগোলা এবং রানিনগর বিধানসভা এলাকায় তাদের প্রভাব বাড়ছে।
এছাড়া নদীয়া জেলার ৪টি আসন, উত্তর দিনাজপুরের ৩-৪টি আসন এবং মালদার চাঁচলের মতো এলাকায় বামেদের জেতার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের পুরুলিয়া ও বাঁকুড়াতেও ৪-৬টি আসনে বামেদের দাপট লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বামেদের এই সম্ভাব্য সাফল্যের পিছনে রয়েছে তাদের 'অরগ্যানিক' সোশ্যাল মিডিয়া প্রচার এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনসংযোগের কৌশল। কংগ্রেস একা লড়াই করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিরোধী ভোট ভাগের একটি সম্ভাবনা থাকলেও, বামেরা মনে করছে মানুষের কর্মসংস্থান ও রাজ্যকে 'বাঁচানোর' ইস্যুই তাদের মূল ভিত্তি হবে।
