তৃণমূলের সব পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পরই বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামীদের সঙ্গে বৈঠক করেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। 'কালের যাত্রা' মন্তব্যে নতুন রাজনৈতিক জল্পনা। 

তৃণমূল কংগ্রেসের সব পদ ছাড়ার পরে একটা বেলাও গড়ালো না। বদলে গেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটা সময়ের অনুগত সৈনিক চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তৃমমূল কংগ্রেসের সব থেকে পদত্যাগ করার পরেই চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য চলে যান বিধানসভায়। সেখানে তিনি কালীঘাটের বিরুদ্ধে অবস্থান করা ঋতব্রতপন্থীদের কাছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকও করেন চন্দ্রিমা।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

চন্দ্রিমার প্রতিক্রিয়া

চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের এই ঘরবদল প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, 'কালে যাত্রায় সবাইকে পা মেলাতে হয়।' তবে তিনি ঋতব্রতদের শিবিরে কিনা তা স্পষ্ট করে জানাননি। তবে তাঁকে বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর অনুগামীদের সঙ্গে বৈঠক করতে দেখা গেছে। পাশাপাশই চন্দ্রিমাকে নিয়ে যে ঋতব্রত শিবির উচ্ছাসিত তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

পদত্যাগ চন্দ্রিমার

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে যখন চরম নাটকীয় পরিস্থিতি, ঠিক তখনই এই ইস্তফার ঘটনা ঘটল। জানা গেছে, কলকাতার তৃণমূলের রাজ্য পার্টি অফিসের মালিক বাড়ির গেটে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। কারণ, বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠী ওই অফিস দখল করেছে বলে খবর ছড়িয়ে পড়েছিল।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাঠানো ইস্তফাপত্রে চন্দ্রিমা জানিয়েছেন যে, তিনি জুন ২০২৬-এ পাওয়া রাজ্য সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন। এর পাশাপাশি, দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলির জন্য অনুমোদিত স্বাক্ষরকারী এবং নির্বাচন কমিশনের সামনে 'দিদি'-র অনুমোদিত ব্যক্তি হিসাবেও তিনি নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছেন।

চন্দ্রিমার চিঠি

চিঠিতে লেখা হয়েছে, "আমি সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছি... আমি বর্তমানে থাকা অন্য সব পদ থেকেও ইস্তফা দিচ্ছি। দয়া করে মনে রাখবেন, বিভিন্ন ব্যাঙ্কে থাকা অ্যাকাউন্টগুলির ক্ষেত্রে আমি অনুমোদিত স্বাক্ষরকারী হিসাবে নিজেকে প্রত্যাহার করছি। আমি ভারতের নির্বাচন কমিশনের সামনে আপনার অনুমোদিত ব্যক্তি হিসাবেও নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছি।"

সন্দীপন সাহা স্বাগত জানান চন্দ্রিমাকে

চন্দ্রিমার এই পদত্যাগকে স্বাগত জানিয়েছেন বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক সন্দীপন সাহা। তাঁর দাবি, "কালীঘাট তৃণমূলে" কাজ করার মতো পরিবেশ আর নেই।

সন্দীপন বলেন, "আমি ওঁর এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানাই। এটা তো হওয়ারই ছিল। আমরা ২২শে জুন একটি বৈঠক করেছিলাম, যেখানে আমরা জাতীয় কর্মসমিতির চেয়ারপার্সন এবং অন্য কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণা করেছি। তাঁরা সবাই আছেন। কিন্তু অন্যদিকে, যাঁদেরই কোনও পদে ঘোষণা করা হচ্ছে, তাঁরা ক্রমাগত ইস্তফা দিচ্ছেন কারণ কালীঘাট তৃণমূলে কাজ করার কোনও পরিবেশই নেই।"

বিজেপির কটাক্ষ

এদিকে, এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি নিয়ে তৃণমূলকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন বিজেপি সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, দলের অভ্যন্তরীণ ভাঙন এখন "প্রমাণিত"।

বিজেপি সাংসদের কথায়, "কে বিদ্রোহী আর কে নয়, বা কে তৃণমূল আর কে নয়, এই প্রশ্নটা সাবধানে ভাবতে হবে। তৃণমূলের সবচেয়ে বড় নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এটা নিয়ে ভাবা উচিত। গত পনেরো বছর ধরে তৃণমূল কংগ্রেস গরিব এবং ধনী উভয়কেই শোষণ করেছে। জনকল্যাণের টাকা নয়ছয় হয়েছে এবং দুর্নীতি ব্যাপক আকার নিয়েছে... এটা পশ্চিমবঙ্গের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। জনতা এতে খুশি নয়, আর আমরা বারবার এই বিষয়টি তুলে ধরেছি। তৃণমূল আর কাজ করতে পারছে না। এটা আজ প্রমাণিত।"

আপাতত দলের সম্পত্তি এবং সাংগঠনিক কাঠামোর ওপর নিয়ন্ত্রণ কায়েম করতে তৃণমূলের অনুগত এবং বিদ্রোহী, দুই গোষ্ঠীই নিজেদের মতো করে এগোচ্ছে। ফলে রাজনৈতিক টানাপোড়েন জারি রয়েছে।