Suvendu Adhikari: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারি প্রশাসন ও জনপরিষেবায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কড়া পদক্ষেপের বার্তা দিয়েছেন তিনি।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নেবে তার সরকার। বিধানসভা নির্বাচনের আগে যেমন বলেছিলেন তেমনই সেই কথাই বিধানসভার মধ্যে দাঁড়িয়ে বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বাজেট অধিবেশনে রাজ্যপালের ভাষণের পরিপ্রেক্ষিতে ধন্যবাদ জ্ঞাপক প্রস্তাবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'এই অধিবেশনের শেষ দিনেই দুর্নীতি রোধে আরও কড়া আইন আনা হচ্ছে। সেই আইন কার্যকর হলে দোষীদের শুধু জেল হবে না। দুর্নীতিকারীর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে নিলাম করা হবে।'

দুর্নীতি প্রসঙ্গে শুভেন্দুর সাফ কথা
মঙ্গলবার শুভেন্দু অধিকারী বলেন, তাঁর সরকার দুর্নীতি বরদাস্ত করবে না। তিনি বলেন,'অনেকেই ভাবছেন , ২ মাস জেলে থাকলাম, তারপর আইনি লড়াই করে জেল থেকে বেরিয়ে এলাম! তাদের মনে রাখতে হবে , এবার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করব। সম্পত্তি নিলাম করবো।' মমতাকেও আক্রমণ করেন শুভেন্দু। বলেন, 'রিশ চ্যাটার্জি, হরিশ মুখার্জি রোড-সহ আমতলার প্রাসাদগুলিতে কলকাতায় উড়ালপুলের নীচে থাকা মানুষদের থাকার ব্যবস্থা করব'।
নিয়োগ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা
শুভেন্দু স্পষ্ট করেছেন, এ বার থেকে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনও ভাবেই পক্ষপাতদুষ্টতা থাকবে না, স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ করা হবে। কোনও রাজনীতিক নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকবেন না। ইউপিএসসি-র মতো নিয়োগ হবে। বাজেটেও সে কথা জানিয়েছে সরকার। তার পরেই বাজেট নিয়ে বিরোধী দলের বিধায়ক কুণাল ঘোষের মন্তব্য নিয়ে পাল্টা কটাক্ষ করেছেন শুভেন্দু। কুণাল জানিয়েছিলেন, বাজেটে সরকারের ব্যয়ের কথা বলা হলেও আয়ের কথা স্পষ্ট করে বলা নেই। কেন্দ্রীয় সরকার-নির্ভর বাজেট হয়েছে।
কুণাল-ঋতব্রতকে জোড়ে আক্রমণ
কুণাল ঘোষকে আক্রমণ করেন শুভেন্দু। বাজেটে বরাদ্দ অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, বীরভূমের পাথর খাদান থেকে পূর্ববর্তী সরকারের আমলে মাসে মাত্র আট কোটি টাকা, অর্থাৎ বছরে প্রায় ১০০ কোটি টাকা রাজস্ব সরকারি কোষাগারে জমা পড়ত। তবে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার প্রথম মাসেই সেই খাত থেকে ৮৩ কোটি টাকা আদায় হয়েছে বলে তিনি জানান এবং মাসিক আদায় ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছানো সম্ভব বলে আশা প্রকাশ করেন।
এরপর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ না করেই মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে ওই খাদান থেকে বার্ষিক মোট ১২০০ কোটি টাকা রাজস্বের মধ্যে মাত্র ১০০ কোটি সরকারের ঘরে আসত। বাকি ১১০০ কোটি টাকা ক্যামাক স্ট্রিট হয়ে দুবাইয়ে চলে যেত বলে তিনি দাবি করেন।
বিরোধী দলনেতা হিসেবে দাবি করা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ও মুখ্যমন্ত্রীর আক্রমণ থেকে রেহাই পাননি। ঋতব্রত তাঁর বক্তৃতায় সুরাবর্দি অ্যাভিনিউয়ের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি উত্থাপন করেন। পার্ক সার্কাসের সেভেন পয়েন্ট থেকে ডন বস্কো সার্কেল পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মিটার দীর্ঘ রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে সুরাবর্দি অ্যাভিনিউ নামে পরিচিত ছিল। কলকাতা পুরসভা সম্প্রতি জানিয়েছে, ওই রাস্তার নতুন নাম হবে গোপাল মুখার্জি রোড।
শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভায় জানান, কার নির্দেশে এই নাম পরিবর্তন হয়েছে তা তাঁর জানা নেই, তবে সুরাবর্দি যেই হোন না কেন, কলকাতায় কোনো মোগল বা পঠানের নামাঙ্কিত রাস্তা রাখা হবে না। জবাবে মুখ্যমন্ত্রী ঋতব্রতকে কটাক্ষ করে বলেন, 'আপনার মস্তিষ্কে ডাল-ভাত, আর হৃদয়ে লেনিন-মাও জে দং।'


