উৎসবের মরশুমে প্লাস্টিক বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে 'ময়দান সাফ' অভিযান চালাল আনন্দনা—দ্য কোকা-কোলা ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন। কলকাতা, ভদোদরা ও মহীশূরে দুর্গাপুজো, নবরাত্রি ও দশেরার সময় PET বোতল সংগ্রহ, রিসাইক্লিং এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য ব্যাগ বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উৎসবের মরশুমে শহরজুড়ে বাড়ে মানুষের ভিড়। দুর্গাপুজো, নবরাত্রি কিংবা দশেরার মতো বড় উৎসবের পর বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় জমে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য। বিশেষ করে প্লাস্টিকের বোতল ও একবার ব্যবহারযোগ্য সামগ্রী পরিবেশের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। এই পরিস্থিতিতে উৎসবের মরশুমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য সামগ্রীর ব্যবহার বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ নিল আনন্দনা—দ্য কোকা-কোলা ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন। তাদের 'ময়দান সাফ' (Maidaan Saaf) অভিযানের মাধ্যমে কলকাতা, ভদোদরা ও মহীশূরে বর্জ্য সংগ্রহ এবং সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ করা হয়েছে।

কোকা-কোলা ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য উৎসবের পর জনবহুল এলাকাগুলিকে পরিষ্কার রাখা এবং ব্যবহৃত প্লাস্টিকের বোতল বা PET বোতল যথাযথভাবে সংগ্রহ করে পুনর্ব্যবহারের ব্যবস্থা করা। পাশাপাশি একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে পুনর্ব্যবহারযোগ্য সামগ্রীর ব্যবহারেও উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।
কলকাতায় এই কর্মসূচির আওতায় বাজার এলাকা থেকে শুরু করে পুজোর মণ্ডপেও বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়। রাহ চ্যারিটেবল ট্রাস্টের সঙ্গে যৌথভাবে গড়িয়াহাট ও এসএস হগ মার্কেটে (নিউ মার্কেট) ক্রেতাদের হাতে পুনর্ব্যবহারযোগ্য কাপড়ের ব্যাগ তুলে দেওয়া হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ীদেরও এই উদ্যোগে সামিল করা হয়েছিল। লক্ষ্য ছিল, কেনাকাটার সময় প্লাস্টিকের ব্যাগের ব্যবহার কমানো। অন্যদিকে, আহিরীটোলা সর্বজনীন দুর্গোৎসবের মণ্ডপে ব্যবহৃত PET বোতল সংগ্রহের বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়।
সংগৃহীত সমস্ত PET বোতল অনুমোদিত পুনর্ব্যবহার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রিসাইক্লিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। ফলে উৎসবের পর রাস্তাঘাট বা জনবহুল এলাকায় প্লাস্টিক বর্জ্য ছড়িয়ে থাকার সম্ভাবনা কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
শুধু কলকাতা নয়, গুজরাটের ভদোদরাতেও নবরাত্রি উপলক্ষে এই কর্মসূচি চালানো হয়। HCCB এবং স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা লক্ষ্যের সহযোগিতায় লক্ষ্মী বিলাস প্যালেস হেরিটেজ প্যান্ডেলে PET বোতল সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। প্রতিদিন প্রায় ৩৫ হাজার দর্শনার্থীর সমাগম হওয়া এই এলাকায় সচেতনতা বৃদ্ধির উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
মহীশূরের দশেরা উৎসবেও একই উদ্যোগ দেখা যায়। মহীশূর সিটি কর্পোরেশন, HCCB এবং সহযোগী সংস্থা সঙ্গম প্রতিষ্ঠানকে সঙ্গে নিয়ে চামুণ্ডি হিলস ও ফুড মেলা প্রাঙ্গণে বর্জ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হয়। ৩০ জনেরও বেশি স্বেচ্ছাসেবক ও সাফাই কর্মী এই কাজে যুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি কন্নড় ভাষায় পথনাটকের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সচেতন করা হয়।
কোকা-কোলা ইন্ডিয়া ও সাউথওয়েস্ট এশিয়ার পাবলিক অ্যাফেয়ার্স, কমিউনিকেশনস অ্যান্ড সাসটেনেবিলিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট দেবযানী আরএল রানা জানান, বড় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য সংস্থা, স্থানীয় প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের যৌথ উদ্যোগ প্রয়োজন। স্থানীয় সহযোগিতার মাধ্যমে বর্জ্য সংগ্রহ ও সঠিকভাবে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করাই তাঁদের লক্ষ্য।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে ICC পুরুষদের ক্রিকেট বিশ্বকাপের সময় শুরু হয়েছিল 'ময়দান সাফ' অভিযান। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ICC পুরুষদের T20 বিশ্বকাপ, মুম্বইয়ের গণেশ চতুর্থী, পুরীর রথযাত্রা এবং ২০২৫ সালের প্রয়াগরাজ মহাকুম্ভেও এই কর্মসূচি সম্প্রসারিত হয়েছে।






