CPIM Bookstall: বোধনের আগেই মিলেছে অনুমতি। আজ থেকেই শর্ত সাপেক্ষ বনগাঁয় যশোর রোডের ধারে বুকস্টল দিতে পারবে বামেরা। এই বিষয়ে কী কী শর্ত বাঁধল আদালত? বিশদে জানতে পড়ুন সম্পূর্ণ প্রতিবেদন।।

CPIM Bookstall: বনগাঁয় বামেদের বুকস্টল করার অনুমতি দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য জানিয়ে দেন যে, পার্টি অফিসের ১০০ মিটারের মধ্যেই বুকস্টল করতে পারবে সিপিআইএম। বুকস্টল তৈরির সময় এবং পরেও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সেখানে মোতায়েন করতে হবে পর্যাপ্ত পুলিশ। গোটা বিষয়টা নিয়ে আগামী ২৩ নভেম্বর জেলা পুলিশ সুপারকেও রিপোর্ট দিতে নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court News)।

সিপিআইএম-কে বুকস্টল করার অনুমতি দিতে গিয়ে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, 'অন্য অনেকে স্টল বসানোর অনুমতি পেলেও মামলাকারীদের সেই অনুমতি দেওয়া হয়নি। এটা মোটেও কাম্য নয়। অন্যরা যখন কোনও অনুমতি ছাড়াই ইচ্ছা মতো স্টল বসিয়ে বিভিন্ন জিনিস বিক্রি করতে পারছে, তাহলে মামলাকারীদের বই বিক্রি করতে দেওয়া হবে না কেন! তাদের কেন অনুমতি নিতে হবে! ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শকে গুরুত্ব দেওয়া গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আশা করব বর্তমান প্রশাসন সেই দিকে লক্ষ্য রাখবে। হাইওয়ে অথরিটি কেন বলছে না? একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম নিয়ম থাকতে পারে না। আইন সবার জন্য সমান। কাউকে অনুমতি দিলাম, আর কাউকে দিলাম না, এটা করলে ভুল বার্তা যাবে। কেউ স্টল করতে চাইল, আর কেউ এসে বাধা দিল, এটা করলে অস্থিরতা তৈরি হবে না?'

এদিন মামলার শুনানিতে মামলাকারী সিপিআইএম-এর আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য্য আদালতে বলেন, 'এটি কোনও জমি সংক্রান্ত মামলা নয়। এটা একজন সাধারন নাগরিক বা একটি রাজনৈতিক দল তাদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার্থে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। এটা সম্পূর্ণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়।'

তখন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য জানতে চান, যেখানে বুক স্টল তৈরি করা হবে, তার আশেপাশে কোনও দুর্গা পুজোর মন্ডপ রয়েছে কিনা। থাকলে এই বুক স্টলের জন্য কী সমস্যা হতে পারে। সেখানে অন্য কাউকে স্টল বসানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে কিনা, সেটাও রাজ্যের থেকে জানতে চান বিচারপতি।

বামেদের শর্ত সাপেক্ষ বুকস্টল করার অনুমতি আদালতের:-

রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র আদালতে দাবি করেন, হাইওয়ের উপর কোনও নির্মাণ করা যায় না। তা করতে গেলে হাইওয়ে অথরিটির অনুমতি প্রয়োজন। কেউ যদি হঠাৎ করে এসে অন্য কারও সম্পত্তির উপর নির্মাণ কাজ করতে চান এবং তার জন্য যদি পুলিশি নিরাপত্তার দাবি জানায়, তখন প্রশাসন কী করবে? এরপরই সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করতে গিয়ে এজি বলেন, ‘’আইনসম্মত ভাবে কোনও কিছু করতে হলে যে যথাযথ অনুমোদনের প্রয়োজন হয়, সেটা মামলাকারীরা খুব ভালো করেই জানে।''

রাজ্যের এই যুক্তির পরই তীব্র ভর্ৎসনা করে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য এজি-এর উদ্দেশ্যে বলেন, ‘কেউ অস্থায়ী নির্মাণ করলে পুলিশ বাধা দেবে, আর কোনও প্রভাবশালীর অস্থায়ী কাঠামো বানানোর সময় পুলিশ দর্শকের ভূমিকা পালন করবে, এটা কি হতে পারে? যদি নিয়মের বাইরে বেরিয়ে সমস্ত বেআইনি নির্মাণ ভাঙ্গার কথা বলা হয়, তাহলে শুক্রবারের মধ্যে বুলডোজার বা জেসিবি চালিয়ে সবকিছু গুঁড়িয়ে দেওয়া হোক, যাতে কোনও অবৈধ নির্মাণ না থাকে।’

‘’তাহলে আর কোনও সমস্যা থাকবে না। আমি রাজ্যকে এক বছর সময় দিচ্ছি। রাজ্য নির্দিষ্ট নীতি তৈরি করুক। রাজ্যকে নিরপেক্ষ অবস্থান নিতে হবে। আমি হাইওয়ে অথরিটিকে নির্দেশ দেব, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমস্ত নির্মাণ ভেঙে দিক। আপনি কি বলতে চান, সিপিআইএম-এর পার্টি অফিসের সামনে কোনও অস্থায়ী নির্মাণ তৈরি হয়নি? আপনি যদি বলেন তৈরি হয়নি, তাহলে মামলা এখানেই শেষ।''

তার উত্তরে এজি বলেন, 'সরকার বা প্রশাসন ওই স্থানে কোনও অস্থায়ী নির্মাণের অনুমতি দিতে পারে না। এবং প্রশাসন সেক্ষেত্রে কোনও রকম নিরাপত্তা দিতে বাধ্য নয়। পূর্ত দফতরের কাছে সিপিআইএম কোনও অনুমতি চায়নি। যে বাড়িতে সিপিআইএম-এর পার্টি অফিস আছে, সেই বাড়ির মালিক হিন্দু জাগরণ মঞ্চকে স্টল তৈরির অনুমতি দিয়েছে।' কিন্তু বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য সেই যুক্তি মানতে রাজি হননি। তিনি পরিষ্কার নির্দেশ দেন, বনগাঁয় যশোর রোডের ধারে যে নির্দিষ্ট স্থানে গত ৬৩ বছর ধরে স্টল গুলো বসানো হয়, সেখানে অন্যদের অনুমতি দেওয়া হলে, সিপিআইএম-কেও তাদের বুক স্টল করার অনুমতি দিতে হবে। সে ক্ষেত্রে তাদের বাধা দেওয়ার কোনও যৌক্তিকতা নেই।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।