Dilip attack Rahul: শনিবার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে তীব্র আক্রমণ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর মতে, রাহুল গান্ধী শুধু ছবি তোলার জন্য দিল্লিতে ধর্না দিচ্ছেন, তাঁর বরং ঝাড়খন্ডে যাওয়া উচিত।
পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ শনিবার লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে একহাত নিলেন। দিল্লিতে পার্লামেন্ট স্ট্রিট পুলিশ স্টেশনে রাহুলের ধর্না নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, রাহুলের উচিত ঝাড়খন্ডে যাওয়া, যেখানে ছাত্রছাত্রীরা আন্দোলন করছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়েও কড়া প্রতিক্রিয়া দেন দিলীপ ঘোষ।
রাহুলকে আক্রমণ দিলীপের
সাংবাদিকদের দিলীপ ঘোষ বলেন, "রাহুল গান্ধীর ঝাড়খন্ডে যাওয়া উচিত, কিন্তু উনি সেখানে যাচ্ছেন না। ওখানে ছাত্ররা নিজেদের স্বার্থে আন্দোলন করছে। ওখানে তো ওঁর নিজের দলই ক্ষমতায়। সরকারের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল, আদালতও সেটা বলেছে। এখন আর কিছু করার নেই, তাই রাহুল গান্ধী শুধু ছবি তুলছেন।"
রাহুল গান্ধীর ধর্না
প্রসঙ্গত, গত ২০ জুলাই যন্তর মন্তরের বিক্ষোভে ছাত্র সাহিল লোচাভের উপর পেলট গান ব্যবহার করা হয়েছে, এই অভিযোগে এফআইআর দায়েরের দাবিতে রাহুল গান্ধী প্রায় আট ঘণ্টা পার্লামেন্ট স্ট্রিট পুলিশ স্টেশনে ধর্না দেন। এর একদিন পরেই এই মন্তব্য করলেন দিলীপ ঘোষ।
অমিত শাহকে সমর্থন দিলীপের
বিএসএফ-এর জমি সংক্রান্ত বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মন্তব্যকে সমর্থন করে দিলীপ ঘোষ অভিযোগ করেন যে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সীমান্ত বেড়া দেওয়ার জন্য জমি দিতে চাননি।
তিনি বলেন, "যখন রাজনাথ সিং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন, তিনি নিজে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করে বেড়া দেওয়ার জন্য জমি চেয়েছিলেন। কিন্তু উনি রাজি হননি এবং জমি কিনে নিতে বলেন। পরে যখন অমিত শাহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হলেন এবং বিএসএফ-এর কাজের সীমা ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ানো হলো, তখন রাজ্য সরকার (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার) তীব্র বিরোধিতা করে। এরপরই বেড়া দেওয়ার জন্য জমি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।"
দিলীপ ঘোষ আরও বলেন যে, জমি হস্তান্তর হওয়ার পর আটকে থাকা কাজ আবার শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, "আটকে থাকা কাজের জন্য আমাদের সরকার ৪৫ দিনের মধ্যে জমি দিয়ে দিয়েছে এবং কাজ শুরু হয়ে গেছে। এখন ৫০ কিলোমিটার অংশে কাজ চলছে। জমি অধিগ্রহণ হয়ে গেলেই পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।"
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে দিলীপের প্রতিক্রিয়া
অন্যদিকে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে দিলীপ ঘোষের অভিযোগ, সেখানে পড়াশোনার চেয়ে আন্দোলনই বেশি গুরুত্ব পায়। দিলীপ ঘোষ বলেন, "যাদবপুরের সংস্কৃতিটাই এমন যে ওখানে খুব বেশি আন্দোলন হয়। পড়াশোনা তো একেবারেই চলে গেছে।" তাঁর অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায়ই "টুকরে-টুকরে"-এর মতো স্লোগান শোনা যায়। তিনি দাবি করেন, কিছু ছাত্রছাত্রী বিপ্লবী কাজকর্ম করে পরে বিদেশে গিয়ে আয়েশের জীবন কাটায়। তিনি বলেন, "এটাই যাদবপুরের সংস্কৃতি। দেখুন কত নেতা তৈরি হলো, কিন্তু বিপ্লবটা কোথায়? যাদবপুর একটা দ্বীপে পরিণত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই পরিবর্তনই হয়েছে।"
উল্লেখ্য, গত ২০ আগস্ট যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সাধারণ সভা চলাকালীন দুই ছাত্র গোষ্ঠীর মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে এবিভিপি-র দুই সদস্য আহত হন। এই ঘটনার পর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার যাদবপুর থানা একটি মামলা দায়ের করে। অভিযোগে বলা হয়, একদল অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি ও বহিরাগত ক্যাম্পাসে জোর করে ঢুকে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং ছাত্রছাত্রী ও নিরাপত্তারক্ষীদের ভয় দেখায়।


