তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। পিঠের সমস্যা, কিডনির সমস্যা এবং শ্বাসকষ্ট সহ একাধিক শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন তিনি। চিকিৎসকরা তাঁর অবস্থা সঙ্কটজনক বলে জানিয়েছেন।

শরীরিক পরিস্থিতি ক্রমে অবনতির দিকে। প্রকাশ্যে এল তৃণমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায়ের শারীরিক অবস্থার কথা। মঙ্গলবার তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি চিন্তায় ফেলেছে চিকিৎসকদের। সূত্রের খবর, স্থিতিশীল হলেও সঙ্কটজনক দমদমের সাংসদ।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

দিঘার জগন্নাথধানের উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন সৌগত। পেসমেকার বসে। অক্ষয়তৃতীয়ার দিনই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তাঁকে আর বাড়িতে রাখার ঝুঁকি নেয়নি পরিবার। বেলঘরিয়ার হাসপাতাল এবং পরে দক্ষিণ কলকাতার একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় তাঁকে। গত ২২ জুন থেকে হাসপাতালে ভর্তি সৌগতের স্নায়ুর রোগ ধরা পড়েছে সম্প্রতি। তাঁর চিকিৎসায় গঠিত হয় মেডিক্যাল বোর্ড। এই বোর্ডের সদস্য স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ মনোজ সাহা, চিকিৎসক বৈভব শেঠ, অরিন্দম মৈত্র এবং রাহুল জৈন।

হাসপাতাল সূত্রে খবর, গত কয়েকদিন ধরে সৌগত রায়ের শারীরিক অবস্থা অবনতি হচ্ছে। রাইস টিউব দিয়ে খাওয়ানো হচ্ছে তাঁকে। মঙ্গলবার হাসপাতালের মেডিক্যাল বুলেটিনে বলা হয়, সৌগতের শরীরে পটাশিয়ামের আধিক্য আছে। এছাড়া শ্বাসনালীতে সংক্রমণ আছে। কিডনির সমস্যা ধরা পড়েছে। দেখা গিয়েছে উচ্চ রক্তচাপ। ইনসুলিনও দিতে হয়েছে। আরও বেশ কিছু শারীরিক জটিলতা আছে। চলছে ফিজিওথেরাপি। এরই সঙ্গে বেড়েছে পিঠের ব্যথা।

এদিন হাসপাতালে প্রবীণ সাংসদকে দেখতে আসেন বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. সুকুমার মুখোপাধ্যায়। আজ বুধবার নিউরোলজিস্ট, নেফ্রোসজিস্ট, এন্ডোক্রিনোলজিস্ট, কার্ডিওলজিস্টদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। অক্সিজেন চলছে অসুস্থ সাংসদের। জানা গিয়েছে, প্রতিদিন ২ লিটার অক্সিজেন দিতে হচ্ছে।

ভারনিক এনসেফালোপ্যাথির কারণে তাঁর অবস্থা কঠিন হচ্ছে। ডাক্তারি ভাষায় তাকে বলা বয় অ্যাকিউট ডিলেরিয়াম। সঙ্গে ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। প্রবীণ সাংসদের সেরেব্রাল অ্যাট্রোফি ধরা পড়েছে। এর কারণে স্মৃতিশক্তি হ্রাস পাচ্ছে।

গত ২২ জুন থেকে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি তিনি। এই নিয়ে চলতি বছরে তৃতীয়বার অসুস্থ হলেন। ৩০ এপ্রিল অক্ষয় তৃতীয়ার দিন মন্দির উদ্বোধনে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। বুকে পেসমেকার বসে। এর পর থেকে একের পর এক জটিলতা বেড়ে চলেছে।