এবারের নির্বাচনে তৃণমূল নেতৃত্বের অন্যতম প্রধান উদ্বেগের বিষয় হলো ইভিএম (EVM) এবং স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা। বৃহস্পতিবার রাত থেকেই কলকাতার বিভিন্ন গণনাকেন্দ্রে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার রাতে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের স্ট্রং রুমের বাইরে প্রায় চার ঘণ্টা বসেছিলেন।
টানটান উত্তেজনা আর আশঙ্কার আবহে ২০২৬-এর বিধানসভা যুদ্ধের অন্তিম মুহূর্ত উপস্থিত। আগামী সোমবার রাজ্যের ২৯৪টি আসনের ভাগ্য নির্ধারিত হতে চলেছে। তার ঠিক দু’দিন আগে শুক্রবার বিকেলে কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে দীর্ঘ বৈঠক করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় সূত্রে খবর, এই বৈঠকের মূল নির্যাস ছিল— ‘স্ট্রং রুম রক্ষা এবং গণনাকেন্দ্রে এজেন্টদের চূড়ান্ত সতর্কতা’]।
স্ট্রং রুম নিয়ে নজিরবিহীন উদ্বেগ:
এবারের নির্বাচনে তৃণমূল নেতৃত্বের অন্যতম প্রধান উদ্বেগের বিষয় হলো ইভিএম (EVM) এবং স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা। বৃহস্পতিবার রাত থেকেই কলকাতার বিভিন্ন গণনাকেন্দ্রে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার রাতে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের স্ট্রং রুমের বাইরে প্রায় চার ঘণ্টা বসেছিলেন। অন্যদিকে, ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের বাইরে অবস্থানে বসেন শশী পাঁজা এবং কুণাল ঘোষ। তৃণমূলের অভিযোগ, সিসিটিভি ফুটেজে স্ট্রং রুমের ভেতর বহিরাগতদের গতিবিধি এবং পোস্টাল ব্যালট নিয়ে নাড়াচাড়া করতে দেখা গিয়েছে। যদিও কমিশনের দাবি, এই অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং সেখানে নিয়ম মেনেই ভোটকর্মীরা কাজ করছিলেন।
অভিষেকের বিশেষ নির্দেশিকা:
শনিবার বিকেল ৪টেয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের ২৯১টি আসনের কাউন্টিং এজেন্টদের নিয়ে একটি জরুরি ভার্চুয়াল বৈঠক করবেন। কালীঘাটের বৈঠকে এই ভার্চুয়াল সভার রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়েছে। সূত্রের খবর, অভিষেক নির্দেশ দিয়েছেন যে গণনার প্রতিটি রাউন্ড শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো এজেন্ট যেন টেবিল ছেড়ে না ওঠেন। বিশেষ নজর দিতে বলা হয়েছে স্ট্রং রুম থেকে কাউন্টিং হলে ইভিএম আনার সময়টুকুতে। এছাড়া, এবারের গণনায় কমিশন প্রবর্তিত কিউআর কোড (QR code) ভিত্তিক পরিচয়পত্রের সাথে অভ্যস্ত হতে এজেন্টদের বিশেষ প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে।
গণনার দিনে বিশেষ স্ট্র্যাটেজি:
কালীঘাটের বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তিনি নিজে ভবানীপুর কেন্দ্রে পাহারায় নজর রাখবেন এবং সমস্ত প্রার্থীদের দিন-রাত স্ট্রং রুম পাহারা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। দলের আশঙ্কা, বিজেপি শেষ মুহূর্তে গণনায় কারচুপি করার চেষ্টা করতে পারে। তাই এজেন্টদের হাতে-কলমে প্রোটোকল শিখিয়ে দেওয়া হচ্ছে যাতে প্রতিটি ইভিএম-এর সিল এবং নম্বর সঠিকভাবে মিলিয়ে নেওয়া হয়।
কমিশনের কড়া বার্তা:
উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, গণনা কেন্দ্রগুলোতে কারচুপির কোনো সুযোগ নেই। ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি নজরদারির পাশাপাশি ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় থাকছে এবং কোনো বিতর্ক নেই বলেই দাবি করেছেন তিনি। এখন দেখার, কালীঘাটের এই ‘মাস্টার প্ল্যান’ ৪ মে ভোটের ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলে।


