স্বামী বিবেকানন্দকে অপমানের অভিযোগে রবিবার মুকুন্দপুরে সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের (SRFTI) সামনে তুমুল বিক্ষোভ দেখাল হিন্দু জাগরণ মঞ্চ। পরিস্থিতি সামলাতে ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
স্বামী বিবেকানন্দকে অপমানের অভিযোগে রবিবার মুকুন্দপুরে সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের (SRFTI) সামনে তুমুল বিক্ষোভ দেখাল হিন্দু জাগরণ মঞ্চ। পরিস্থিতি সামলাতে ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। বিক্ষোভকারীরা রীতিমতো গেট ভেঙে এসআরএফটিআই ক্যাম্পাসে ঢোকার চেষ্টা করেন।
SRFTI- বিক্ষোভ কেন ?
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ইনস্টিটিউটের পড়ুয়ারা ভারতমাতার ছবি ছিঁড়েছে। এমনকি স্বামী বিবেকানন্দের ছবিতে লাথি মারা ও থুতু ছেটানোর মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছে। পাশাপাশি, পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে পাকিস্তান জিন্দাবাদ স্লোগান দেওয়ারও অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা।
হিন্দু জাগরণ মঞ্চের এক সদস্য বলেন, "আমরা এদিক থেকে কিছুই ছুঁড়ছি না। ওরা যতক্ষণ না যাচ্ছে, আমাদের এই বিক্ষোভ চলবে। ওরা স্বামী বিবেকানন্দকে অপমান করেছে, 'পাকিস্তান জিন্দাবাদ' স্লোগান দিচ্ছে— এসব এখানে চলবে না।" সংগঠনের আরেক সদস্য আনন্দ সাহু অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা "ভারতমাতার ছবি ছিঁড়েছে" এবং "বিবেকানন্দের ছবিতে লাথি মেরেছে"। আনন্দ সাহু আরও বলেন, "ধর্মনিরপেক্ষতার নামে ওরা দেশকে ভাগ করছে। এরা দেশবিরোধী। আমাদের দাবি, এই ধরনের লোকেদের দেশ থেকে তাড়াতে হবে।" তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, জাতীয় পতাকা ও স্বামী বিবেকানন্দকে অপমান করা হয়েছে। অভিযুক্তদের তিনি "পাকিস্তান প্রেমী" বলেও কটাক্ষ করেন।
ববিতা প্রসাদ নামে সংগঠনের আরেক সদস্য জানান, এই ধরনের "দেশবিরোধী" কার্যকলাপের প্রতিবাদেই তাঁদের এই বিক্ষোভ। ববিতা বলেন, "আজ ভারতমাতার ছবিতে লাথি মারা হয়েছে, থুতু ফেলা হয়েছে। যে স্বামী বিবেকানন্দ বিদেশে এই দেশের মাথা উঁচু করেছিলেন, তাঁর ছবিতেও লাথি মারা হয়েছে, থুতু ছেটানো হয়েছে।" তিনি জানান, "আমরা কোন দেশে বাস করছি এবং কাদের সঙ্গে বাস করছি", সমাজকে সেটা ভাবানোর জন্যই এই বিক্ষোভ।
বিক্ষোভে হনুমান চালিসা পাঠ
বিক্ষোভ চলাকালীন প্রতিবাদীরা হনুমান চালিসাও পাঠ করেন। হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সদস্য সুধাংশু সিং স্বামী বিবেকানন্দের প্রসঙ্গে "গেরুয়া মানেই সন্ত্রাসবাদ" কথাটির ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, "স্বামীজি গেরুয়া পোশাক পরতেন। আপনারা কীভাবে লিখতে পারেন যে গেরুয়া মানেই সন্ত্রাসবাদ? যে গেরুয়া পরে, তাকে আপনারা কীভাবে সন্ত্রাসী বলতে পারেন?" আরেক বিক্ষোভকারী অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গ তথা দেশের প্রতি স্বামী বিবেকানন্দের এত অবদান থাকা সত্ত্বেও তাঁর ছবিকে অপমান করা হয়েছে। তিনি বলেন, "যে মানুষটা পশ্চিমবঙ্গ ও ভারতকে এত কিছু দিয়েছেন, এমন একজন মহামানবকে ওরা পায়ে করে লাথি মারছে। এটা ভাবাই যায় না।"
বিক্ষোভকারীদের আরও অভিযোগ, গন্ডগোলের সময় পাথর ও বোতল ছোঁড়া হয়েছে। এক বিক্ষোভকারী জানান, পাথর ছোঁড়ার বিষয়টি তাঁরা উড়িয়ে দিচ্ছেন না, তবে তাঁরা যথেষ্ট সংযম বজায় রেখেছেন।
এরই মধ্যে, কলকাতা পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের এক কর্মী অভিযোগ করেন যে, নিজেকে পুলিশ অফিসার হিসেবে পরিচয় দেওয়া সত্ত্বেও তাঁকে মারধর করা হয়েছে। ওই পুলিশ কর্মীর অভিযোগ, মারধরের জেরে তাঁর নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বেরোয়। এমনকি তাঁর মোবাইল ফোন ও হাতঘড়িও খোয়া গিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
যদিও হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সদস্যরা পুলিশকে মারধর করেছে, এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এক বিক্ষোভকারী। ওই বিক্ষোভকারী বলেন, "কেউ পুলিশকে মারে নি।" তিনি আরও জানান, ভারতমাতাকে অপমানের প্রতিবাদে সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই নিরস্ত্র বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। তিনি স্পষ্ট জানান, তাঁদের সংগঠন সংবিধান মেনেই বিক্ষোভ দেখাচ্ছে। পুলিশকে মারধরের কোনও দায় তাঁরা নিতে অস্বীকার করেন।


