- Home
- West Bengal
- Kolkata
- ৩২ ঘণ্টা পরেও ধিকিধিকি আগুন আনন্দপুরের 'জতুগৃহ' জোড়া গুদামে, স্বজনহারাদের কান্না মৃত্যুপুরীতে
৩২ ঘণ্টা পরেও ধিকিধিকি আগুন আনন্দপুরের 'জতুগৃহ' জোড়া গুদামে, স্বজনহারাদের কান্না মৃত্যুপুরীতে
Anandapur fire: ৩২ ঘণ্টা পরেও পকেট ফায়ার রয়েছে আনন্দপুরের জোড়া গুদামে। মোমো আর ডেকরেটার্সের গোডাউনে সোমবার রাতে আগুন লাগে। মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৮। ১৩ জনের খোঁজ পাওয়া যায়নি।

ধিকিধিকি আগুন জ্বলছে আনন্দপুরের আগুন
৩২ ঘণ্টা পার। এখনও ধিকিধিকি জ্বলছে পূর্ব কলকাতার আনন্দপুরের জোড়া গুদামের আগুন। ইতিমধ্যেই মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৮। এখনও নিখোঁজ রয়েছে অনেকে। এদিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু।
আগুন লাগে
রবিবার রাত প্রায় ৩টে নাগাদ আনন্দপুরের নাজিরাবাজের একটি মোমো কোম্পানির গুদামে আগুন লাগে। মোমো কোম্পানির গুদাম লাগোয়া আরও দুটি গুদামে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। সোমবার অনেক রাত পর্যন্ত দমকল আগুন নেভানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু এখনও পকেট ফারায় রয়েছে। সোমবার দমকলের ১২টি ইঞ্জিন আগুন নেভানোর কাজ করেছিল। কিন্তু মঙ্গলবার বেলার দিকেও ধিকিধিকি আগুন জ্বলতে দেখা যায়।
১৪ জন নিখোঁজ
আনন্দপুরের জোড়া গুদামের আগুনে এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৮। ১৪ জন নিখোঁজ রয়েছে। বেশ কিছু দেহাংশ উদ্ধার হয়েছে। সেগুলি শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। দেহাংশগুলি ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠান হয়েছে। এখনও কেউ আটকে রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে দমকল বাহিনী। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা।
আগুনের কারণ
কী করে এই ভয়ঙ্কর অগ্নিকাণ্ড তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে প্রচুর পরিমাণে দাহ্য পদার্থ ছিল, বলে জানিয়েছে দমকল বাহিনী। এদিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন দমকল বিভাগের ডিজি রণবীর কুমার। তিনি বলেন, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে দমকলের কোনও ছাড়পত্র নেই গুদামের কাছে। এই বিষয় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অনুমোদন ছাড়া কী করে দিনের পর দিন গুদাম চলছিল তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে দমকল। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে বলেও জানিয়েছেন ডিজি।
সুজিত বসুর মন্তব্য
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সুজিত বসু। তিনি দমকল কর্মী ও আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন। সুজিত বসু বলেন, এই জায়গাটা একটি জতুগৃহের মত। ৩৫ হাজার বর্গফুট জুড়ে বিস্তৃত এলাকায় পাশাপাশি একটি মোমোর কারখানা আর ডেকরেটার্সের গুদাম ছিল। সেখানেই প্রচুর দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তাতেই বহু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
স্বজনহারাদের কান্না
আনন্দপুরের মৃত্যুপুরী অগ্নিদগ্ধ গুদামের সামনে স্বজনহারাদের কান্না বাড়ছে। এখনও পর্যন্ত ৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ ১৩ জন। মৃত ও নিখোঁজদের অধিকাংশেরই বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরে। জতুগৃহের সামনে দাঁড়িয়ে রেয়েছে প্রিয়জনের একটা খবরের জন্য।

