Kolkata Crime News: রাতের শহরে ফের চলল গুলি। শ্যুটআউটে নিহত যুবক। কোথায় ঘটেছে এই ঘটনা? ভোটের মুখে ফের গুলিকাণ্ড! বিস্তারিত জানতে পড়ুন সম্পূর্ণ প্রতিবেদন… 

Kolkata Crime News: ভোটের মুখে ফের ফের গোলাগুলি। ছাদের উপরে বসে মদ্যপানের সময় দুই দলের মধ্যে চলে গোলাগুলি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় একজনের। এলাকায় কার্তুজ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে কলকাতা পুরসভার ১০১ নম্বর ওয়ার্ডে। মৃতের নাম রাহুল দে। বয়স - ৩৬। আহত হয়েছেন জিৎ মুখোপাধ্যায় নামে আরও একজন।

সূত্রের খবর, রাহুল এবং জিৎ পূর্ব পরিচিত। তবে, দীর্ঘদিন তাদের কোনও যোগাযোগ ছিল না। বুধবার রাতে জিৎ মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে অনুষ্ঠান ছিল। সেখানে আমন্ত্রিত ছিলেন রাহুল। এরপর জিৎ-এর বাড়ির ছাদে বসেছিলেন সকলে। মদ্যপান করছিলেন বলে অভিযোগ। রাত সাড়ে বারোটা নাগাদা গুলির শব্দ শুনতে পান প্রতিবেশীরা। প্রায় তিন রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায়। ছাদের উপর বাকি যারা ছিলেন তারা সেখান থেকে পালিয়ে যান। তাদের মধ্যে থেকেই রাহুলের বাড়িতে খবর দেওয়া হয়।

কী কারণে চলল গুলি?

স্থানীয় সূত্রে খবর, ২০২১ সাল থেকে জিৎ পাটুলি ছাড়া ছিলেন। একাধিকবার পাটুলি থানার হাতে গ্রেফতার হয় বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপে যুক্ত থাকার অভিযোগে। ১০১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্তের ঘনিষ্ঠ ছিলেন তিনি। পরবর্তীতে কাউন্সিলরের নাম করে নানা ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ শুরু হয় এলাকা জুড়ে। এরপর খোদ কাউন্সিলরই থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

 একবার-দু’বার নয়, অন্তত বেশ কয়েকবার থানার হাতে গ্রেফতার হয়েছে এই জিৎ। এরপর তাকে তৃণমূল থেকে বের করে দেওয়া হয়। তাই ৯৯ নম্বর ওয়ার্ডে বাড়ি ভাড়া করে থাকতে শুরু করে এই জিৎ। তবে সেখানে গিয়েও একই অপরাধে উপযুক্ত হয়ে পড়ে এই যুবক বলে অভিযোগ। নেতাজি নগর থানার হাতেও তাকে বেশ কয়েকবার গ্রেফতার হতে হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

গত ১৫ থেকে ২০ দিন ধরে পাটুলির ফুলবাগানে আবার বাবা মায়ের ফ্ল্যাটে এসে থাকতে শুরু করেছিলেন তিনি। দাবি ছিল,বাবা এবং মাকে দেখতে আসছে। এলাকায় থাকার জন্য আসছে না। বৃহস্পতিবার রাতে নিজের আবাসনের ছাদে মদ্যপানের আসর বসানোর জন্য রাহুলকে নিমন্ত্রণ করেন তিনি বলে অভিযোগ। সেই মতোই আসর চলছিল। তখনই জিৎ-রাহুলের বিরুদ্ধে গোষ্ঠীর দুষ্কৃতীরা ওই আবাসনে ঢুকে পড়ে ছাদে চলে যায়। সেখানেই পরপর গুলি চালায়। ঘটনাস্থলে রাহুলের প্রাণ যায়। জিৎ জখম হয়ে ইএম বাইপাস লাগোয়া একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে অনুমান,সিন্ডিকেট এবং টাকা ভাগাভাগি নিয়ে দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে বিবাদ। তাতেই এই গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে যায়।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।