পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, আসাম, কেরালা ও পুদুচেরিতে ভোটের দিন ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। এর সঙ্গে সঙ্গেই চালু হয়েছে আদর্শ আচরণ বিধি। এর ফলে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষমতা কতটা কমল এবং তিনি কোন কোন কাজ আর করতে পারবেন না, জেনে নিন।

ভারতের নির্বাচন কমিশন রবিবার আসাম, কেরালা, পুদুচেরি, তামিলনাড়ু এবং পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটের দিন ঘোষণা করেছে। কমিশন জানিয়েছে, আসাম, কেরালা ও পুদুচেরিতে ভোট হবে ৯ এপ্রিল। তামিলনাড়ুতে ভোটগ্রহণ হবে ২৩ এপ্রিল। আর পশ্চিমবঙ্গে ভোট হবে দুই দফায়—২৩ এবং ২৯ এপ্রিল। পাঁচটি রাজ্যের বিধানসভা ভোটের ফল একসঙ্গেই ৪ মে ঘোষণা করা হবে। এই ঘোষণার পরেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষমতা কতটা কমল? তিনি কি আগের মতোই সব কাজ করতে পারবেন? আসুন, বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

ভোট ঘোষণার পর মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষমতা কতটা থাকে?

ভোটের দিন ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই এই রাজ্যগুলিতে আদর্শ আচরণ বিধি (Model Code of Conduct) চালু হয়ে গিয়েছে। এর ফলে মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষমতায় কিছুটা রাশ টানা হয়। তবে তাঁর ক্ষমতা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায় না। এই সময়ে নির্বাচন কমিশন সরকারের সব কাজের ওপর কড়া নজর রাখে। আচরণ বিধি ভাঙলে কমিশন সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থাও নেয়।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন এই তিনটি কাজ করতে পারবেন না

যেহেতু পশ্চিমবঙ্গে ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ হয়ে গিয়েছে, তাই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন কয়েকটি জরুরি কাজ আর করতে পারবেন না। যেমন:

  • তিনি রাজ্যের মানুষের জন্য নতুন কোনও প্রকল্পের ঘোষণা করতে পারবেন না।
  • নতুন কোনও প্রকল্পের শিলান্যাস বা উদ্বোধনও করা যাবে না।
  • নির্বাচন কমিশনের অনুমতি ছাড়া তিনি কোনও সরকারি আধিকারিকের বদলি, নতুন নিয়োগ বা পদোন্নতি করতে পারবেন না।

বাংলায় নতুন কোনও প্রজেক্ট শুরু করা যাবে না

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন ভোটারদের প্রভাবিত করার জন্য কোনও জনদরদী প্রতিশ্রুতি দিতে পারবেন না। বড় অঙ্কের খরচের কোনও আর্থিক সিদ্ধান্তও নেওয়া যাবে না। রাজ্যে নতুন কোনও প্রজেক্ট শুরু করাও এখন নিষিদ্ধ। তবে, আগে থেকে যে সব প্রকল্পের কাজ চলছে, সেগুলি চালু রাখা যাবে। শর্ত একটাই, সেই কাজগুলিকে ভোটের প্রচারে ব্যবহার করা যাবে না। নির্বাচন কমিশন এই সবকিছুর ওপর কড়া নজর রাখবে।