কলকাতার এন্টালিতে নাবালিকার সন্তান প্রসবের ঘটনায় চাঞ্চল্য। ন’মাস ধরে যৌন নিগ্রহের অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

খাস কলকাতায় 'মা' হল কিশোরী। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, কিশোরী সন্তান প্রসব করলে স্বামীর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারই স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা করবে। কিন্তু শুভেন্দুর এই হুঁশিয়ারির মধ্যেই কলকাতার এন্টালি ১৬ বছরের কিশোরী কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছে ২১ সেপ্টেম্বর। কিন্তু কিশোরীর সন্তানকে চিত্তরঞ্জন সেবা সদন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাতেই গোটা ঘটনা জানতে পারে পুলিশ।

খাস কলকাতায় কিশোরীর সন্তান প্রসব

পুশিল সূত্রের খবর, কিশোরী এন্টারির বাসিন্দা। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত যুবক এন্টালির বাসিন্দা। তাকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে। অভিযুক্ত ১৯ বছরের সমীর আলম। তার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই পুলিশ পকসো আইনে মামলা রুজু করা হয়েছএ। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারাও যোগ করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই সমীর আলমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাতেই সে স্বীকার করেছে, ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর কিশোরীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। একাধিকবার যৌন নিগ্রহ করা হয়। তারই জেরে কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। সোমবারই কিশোরী সন্তান প্রসব করে। বাড়িতেই সন্তানের জন্ম দেয় কিশোরী। কিন্তু সন্তানের উপযুক্ত পরিষেবা আর চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যায়। তখনই গোটা বিষয়টা জানতে পারে পুলিশ।

কী করে জানা যায় মা কিশোরী?

পুলিশ সূত্রের খবর, হাসপাতালে কিশোরী নিজের আধার কার্ড জমা দেয়। তারপরই জানা যায় মায়ের বয়স ১৬। তখন হাসপাতাল থেকেই পুলিশকে সব জানানো হয়। হাসপাতালের অভিযোগের ভিত্তিতে ভবানীপুর থানায় প্রথমে জিরো এফআইআর দায়ের করা হয়। তা পাঠিয়ে দেওয়া হয় এন্টালি থানায়। তার ভিত্তিতে অভিযুক্ত সমীরকে খুঁজে বার করে পুলিশ। নাবালিকার সঙ্গে অভিযুক্তের বিয়ে হয়েছিল কিনা তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা

কিছুদিন আগেই বাল্যবিবাহ রুখতে রাজ্য সরকার কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগেই কোনও কিশোরী সন্তানের জন্ম দিলে তার স্বামীর বিরুদ্ধে পকসো আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে এই আইনে। শুধু তাই নয়, এমন ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের সরকারি প্রকল্পের সুযোগ-সুবিধা এবং সামাজিক ভাতা থেকেও বঞ্চিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য প্রশাসন।