কালীঘাটে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির বাইরে অশান্তির ঘটনায় তিন তৃণমূল কর্মীকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ। ধৃতদের দাবি, আসল অপরাধীদের ছেড়ে তাদের অকারণে ফাঁসানো হচ্ছে।
কালীঘাটে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির বাইরে অশান্তির ঘটনায় তিন তৃণমূল কর্মীকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ। ধৃতদের নাম শ্রীদীপ দাস, মহম্মদ তকির আলম এবং মহম্মদ ইরশাদ।
গ্রেফতারির পর তৃণমূল কর্মী শ্রীদীপ দাস দাবি করেন যে, দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে সমর্থন করার জন্যই তাকে টার্গেট করা হচ্ছে। তার আরও অভিযোগ, যারা ভাঙচুর চালিয়েছে পুলিশ তাদের ধরেনি। শ্রীদীপের কথায়, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলকে সমর্থন করাই আমার একমাত্র অপরাধ। তৃণমূল পুলিশকে যাদের নাম দিয়েছে, সেই আসল দুষ্কৃতীদের একজনকেও গ্রেফতার করা হয়নি।"

অভিষেকের অভিযোগ
এর আগে শুক্রবার গভীর রাতে অভিষেকের বাড়িতে হামলা হয়। এই হামলার পেছনে বিজেপির হাত রয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে তৃণমূল নেতা বিরোধী কর্মী, কলকাতা পুলিশ এবং উচ্চ আদালতের বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ এনেছেন। অভিষেকের মতে, গত রাত দুটো নাগাদ "বিজেপির গুন্ডারা" তার বাড়িতে হামলা চালায়। তিনি বলেন, "আজ সকালে আমি রেকির ভিডিও প্রকাশ করার পর, রাত ২টো নাগাদ কলকাতা পুলিশের নজরদারির মধ্যেই বিজেপির গুন্ডারা আমার বাড়িতে হামলা করেছে।"
কলকাতা হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের সমালোচনা করে তিনি বলেন, "ধন্যবাদ কলকাতা হাইকোর্ট এবং ভারতের সুপ্রিম কোর্ট, এই সব ঘটনা চলাকালীন নীরব দর্শক হয়ে থাকার জন্য। আমি শীঘ্রই ভিডিওগুলো আপলোড করব।"
অভিষেকের প্রতিক্রিয়া
শুক্রবার সকালেই অভিষেক অভিযোগ করেছিলেন যে, গত দু'দিন ধরে কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি তার বাড়ির ওপর নজরদারি চালাচ্ছে। বাধা দিলে তারা নিজেদের পুলিশ অফিসার বলে দাবি করে। তিনি জানান, "গত দু'দিন ধরে কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি আমার অফিস ও বাড়ির রেইকি করছে। তাদের বাইকের নম্বর নিচে দেওয়া হল। মুখোমুখি হলে তারা নিজেদের পুলিশকর্মী বলে দাবি করে।" একজন নির্বাচিত সাংসদের বাড়িতে কলকাতা পুলিশ কেন নজরদারি চালাচ্ছে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
ঘটনার সূত্রপাত
শনিবার ৭ নভেম্বর অর্থাৎ আজ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিন। সেই উপলক্ষ্যে শুক্রবার মধ্যরাতের পরই তাঁর কালীঘাটের বাড়ির সামনে জড়ো হয়েছিলেন তাঁর ও কালীঘাটপন্থী তৃণমূল কংগ্রেসের অনুগামীরা। অভিযোগ সেখানেই রাত ২টো নাগাদ হাজির হয় বিজেপি কর্মীরা। তারাই 'চোর চোর' স্লোগান দিতে শুরু করে। জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি , কাটআউট সবই ছিঁড়ে ফেলা হয়। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা কর্মীরা তাতে বাধা দিতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। তারপরই তা হাতাহাতির পর্যায় পৌঁছে যায়। রাতেই অভিষেক বাড়ির বাইরে বেরিয়ে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে দেখা করেন। সেই সময় তিনি বলেন, 'হামলা করে আমাকে প্রাণে মারার চক্রান্ত চলছে।' পুলিশকেও বিজেপি কর্মীরা মেরেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।














