মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের বিরুদ্ধে FIR দায়ের হওয়া নিয়ে এবার মুখ খুললেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে ভয় ও হুমকির পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে বিজেপি। পাশাপাশি, বিদ্রোহী সাংসদদেরও একহাত নিয়েছেন তিনি।
পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের বিরুদ্ধে FIR দায়ের হওয়া নিয়ে শোরগোলের মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) নেতা কুণাল ঘোষ অভিযোগ করলেন যে, বিজেপি রাজ্যে ভয় ও হুমকির পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করছে। সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কুণাল বলেন, রাজ্যে নির্বাচনী প্রচারের সময় বিজেপির নেতারা যে মন্তব্য করেছিলেন, তার জন্যও তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কুণাল বলেন, "নির্বাচনের আগে বিজেপির বড় বড় নেতারা এখানে এসে অনেক 'ডায়লগবাজি' করেছেন। সেগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এখন ওরা ক্ষমতায়, তাই ভয় আর হুমকির পরিবেশ তৈরি করার জন্য এসব করছে।"

অভিষেক প্রসঙ্গে কুণাল
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের বাড়িতে সিআইডি-র হানা প্রসঙ্গে কুণাল কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তিনি বলেন, অভিষেক নিজেই এই বিষয়ে বলার জন্য যথেষ্ট সক্ষম। তাঁর কথায়, "অভিষেক ব্যানার্জি নিজের বিষয় ব্যাখ্যা করার জন্য যথেষ্ট সক্ষম। এ নিয়ে আমার কোনও মন্তব্য নেই।"
বিক্ষুদ্ধ সাংসদ নিয়ে কুণালের প্রতিক্রিয়া
লোকসভার স্পিকারের দপ্তরে ১৯ জন বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদের নাম জমা দেওয়ার বিষয়ে কুণাল কটাক্ষ করে প্রশ্ন তোলেন, কেন ওই সাংসদরা তাঁদের সদস্যপদ ধরে রাখতে চাইছেন। তিনি পদত্যাগকারী রাজ্যসভার সদস্যদের উদাহরণ অনুসরণ করার পরামর্শ দেন। কুণাল বলেন, "এটা তো মেডিক্যাল সায়েন্সের বিষয় – কী করে একসঙ্গে এতজন সাংসদের 'বুকে ব্যথা' হতে পারে? ওদের রাজ্যসভার মডেল অনুসরণ করা উচিত। জহর সরকার, সুখেন্দু শেখর রায় এবং সুস্মিতা দেব সবাই তো পদত্যাগ করেছেন। এই লোকসভা সাংসদরা তো নির্দল ছিলেন না। তাঁরা সবাই মমতা দিদির প্রার্থী, তৃণমূলের প্রার্থী ছিলেন। মমতা দিদির সমর্থকরাই তাঁদের ভোট দিয়েছেন। তাহলে তাঁদের লোকসভার সদস্যপদ কেন থাকবে? রাজ্যসভার মতো পদত্যাগ করা উচিত।"
কংগ্রেসে মেশার জল্পনা
তৃণমূল ও কংগ্রেসের মিশে যাওয়ার জল্পনাও উড়িয়ে দিয়েছেন কুণাল। তিনি বলেন, দুটি দলই আলাদা সত্তা। তাঁর কথায়, "এটা কী করে সম্ভব? তৃণমূল একটা আলাদা দল, কংগ্রেসও আলাদা দল। ইন্ডিয়া জোটকে আরও শক্তিশালী করতে কংগ্রেস ও তৃণমূল নেতৃত্ব, এবং বাকি সব দলের নেতৃত্ব একসঙ্গে কাজ করছে।"
সূত্রের খবর, গত ১৮ মে কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং শতাব্দী রায়ের মতো সিনিয়র নেতা-সহ ১৯ জন দলত্যাগী সাংসদ লোকসভার স্পিকারের দপ্তরে তাঁদের নাম জমা দেন। এই তালিকায় আরও রয়েছেন বাপী হালদার, ডঃ শর্মিলা সরকার, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, জগদীশ বর্মা বাসুনিয়া, অসিত কুমার মাল, অরূপ চক্রবর্তী, রচনা ব্যানার্জি, সায়নী ঘোষ, খলিলুর রহমান, আবু তাহের খান, ইউসুফ পাঠান, মিতালী বাগ, মালা রায়, কালীপদ সোরেন, দীপক অধিকারী, জুন মালিয়া এবং পার্থ ভৌমিক।
এছাড়াও, তৃণমূলের প্রায় ৫৮ জন বিধায়ক বহিষ্কৃত নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁরা ঋতব্রতকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে নির্বাচিত করে বিদ্রোহী গোষ্ঠীকেই 'আসল তৃণমূল' বলে দাবি করেছেন।


