- Home
- West Bengal
- Kolkata
- PM Modi: ঝালমুড়ি- গঙ্গায় নৌকা বিহারের পর এবার ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে পুজো মোদীর, দেখুন ছবিতে
PM Modi: ঝালমুড়ি- গঙ্গায় নৌকা বিহারের পর এবার ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে পুজো মোদীর, দেখুন ছবিতে
PM Modi: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোটের দ্বিতীয় দফার আগে রবিবার কলকাতার ঐতিহাসিক ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে পুজো দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এরপর উত্তর ২৪ পরগনার ঠাকুরনগরে গিয়ে মতুয়া সম্প্রদায়কে নাগরিকত্ব (CAA) দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে মোদী
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোটের দ্বিতীয় দফার প্রচারের আগে রবিবার উত্তর কলকাতায় রোড-শো করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তার আগেই তিনি শহরের ৩০০ বছরেরও বেশি পুরোনো ঐতিহাসিক ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে গিয়ে মা কালীর আশীর্বাদ নেন।
ঠনঠনিয়া কালীবাড়ির ঐতিহ্য
ঠনঠনিয়া কালীবাড়ি কলকাতার অন্যতম প্রাচীন এবং জাগ্রত একটি কালী মন্দির। এটি ১৭০৩ সালে তৈরি হয়েছিল, অর্থাৎ শহরের আনুষ্ঠানিক বিকাশেরও আগে থেকে এই মন্দিরের অস্তিত্ব রয়েছে। এখানকার দেবী মা সিদ্ধেশ্বরী নামে পূজিত হন। শোনা যায়, রামকৃষ্ণ পরমহংস প্রায়ই এই মন্দিরে আসতেন এবং মা সিদ্ধেশ্বরীর জন্য ভক্তিগীতি গাইতেন।
রামকৃষ্ণ এই মন্দিরে পুজো করতেন
মন্দিরের দেওয়ালে তাঁর বলা একটি 'বাণী' খোদাই করা আছে— 'শঙ্করের হৃদয় মাঝে, কালী বিরাজে'। এটি ভারতের সেই হাতেগোনা কয়েকটি কালী মন্দিরের মধ্যে একটি, যেখানে দেবীকে আমিষ প্রসাদ উৎসর্গ করা হয়। এই প্রথাটি রামকৃষ্ণ পরমহংসই শুরু করেছিলেন। কথিত আছে, ব্রাহ্মনন্দ কেশবচন্দ্র সেনের দ্রুত আরোগ্যের জন্য রামকৃষ্ণ পরমহংস 'ডাব-চিংড়ি' দিয়ে মা সিদ্ধেশ্বরীর পুজো দিয়েছিলেন। সেই দিন থেকেই আমিষ প্রসাদের এই রীতি চলে আসছে। আবার রামকৃষ্ণদেব যখন শ্যামপুকুরে থাকাকালীন অসুস্থ হয়ে পড়েন, তখন তাঁর ভক্তরা তাঁর আরোগ্য কামনায় এই মন্দিরে আমিষ প্রসাদ দিয়ে পুজো দিয়েছিলেন।
নির্বাচনী প্রচারে মোদী
এদিকে, ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে পুজো দেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী উত্তরবঙ্গে একটি রোড-শো করেন। এর পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ঠাকুরনগরে তাঁর নির্বাচনী জনসভার আগে সেখানকার মতুয়া ঠাকুর মন্দিরেও যান।
মতুয়াদের উদ্দেশ্যে মোদীর বার্তা
সেখানে গিয়ে কয়েক বছর আগে মতুয়া সম্প্রদায়ের বড়ো মা বীণাপাণি দেবীর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের কথা স্মরণ করেন। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'X'-এ একটি পোস্টে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আজ মতুয়া ঠাকুর মন্দিরে প্রার্থনা করলাম। শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরজি এবং শ্রী শ্রী গুরুচাঁদ ঠাকুরজির আদর্শ আমাদের সমাজকে আলোকিত করে চলেছে।"
২০১৯ সালের কথা স্মরণ মোদীর
প্রধানমন্ত্রী ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের আগে বীণাপাণি দেবীর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের একটি ছবিও শেয়ার করেন। তিনি পোস্টে লেখেন, "আজ যখন আমি মতুয়া ঠাকুর মন্দিরে ছিলাম, তখন কয়েক বছর আগের আমার সফরের কথা মনে পড়ছিল, যখন আমি বড়ো মা বীণাপাণি ঠাকুরের আশীর্বাদ পেয়েছিলাম। সেই সফরের একটি ছবি এখানে দিলাম।" উল্লেখ্য, বীণাপাণি দেবী সেই বছরই প্রয়াত হন।
সিএএ নিয়ে বার্তা মোদীর
এদিন উত্তর ২৪ পরগনার ঠাকুরনগরের জনসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় মোদী তাঁর ২০১৯ সালের সফরের কথা মনে করিয়ে বলেন যে, মতুয়াদের মতো সম্প্রদায়গুলিকে দেশের নাগরিকত্ব দিতেই কেন্দ্র নাগরিকত্ব (সংশোধনী) আইন, ২০১৯ (CAA) কার্যকর করেছে।
মোদী বলেন, "আজ অনেক স্মৃতি মনে পড়ছে... প্রায় ৪-৫ বছর আগে, আমি সীমান্তের ওপারে ওড়াকান্দিতে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলাম। আমি সেখানকার মতুয়াদের সঙ্গে দেখা করি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমিই প্রথমবার সেখানে গিয়েছিলাম। মন্দিরে পুজোও দিয়েছিলাম। যখন আমি বড়ো মার আশীর্বাদ নিতে যাই, তাঁর স্নেহ আমাকে আপ্লুত করেছিল। আমি এটা কখনও ভুলব না।" প্রসঙ্গত, ওড়াকান্দি বাংলাদেশে অবস্থিত। প্রধানমন্ত্রী কলকাতা থেকে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নির্বাচনে জয় এবং বিশেষ করে ২৪ পরগনা ও নদীয়া থেকে জন সংঘের পাওয়া সমর্থনের কথাও স্মরণ করেন।
শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের কথা বললেন মোদী
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুখোপাধ্যায় "সবসময় পূর্ববঙ্গ থেকে আসা শরণার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। শ্যামাপ্রসাদকে শরণার্থীদের মুখপাত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দেশভাগের সময় থেকে আজ পর্যন্ত সমস্ত শরণার্থী আমাদের দায়িত্ব। তাঁদের কথা ভাবা ভারতের ঐতিহাসিক দায়িত্ব। সেই কারণেই মোদী CAA এনেছে। এটা আগে কেন করা হয়নি? আমি মতুয়া এবং নমঃশূদ্রদের বলব যে আপনাদের নাগরিকত্ব, স্থায়ী ঠিকানা, কাগজপত্র এবং ভারতের সব নাগরিকের মতো সমস্ত অধিকার দেওয়া হবে। এটা মোদীর গ্যারান্টি।"
দ্বিতীয় দফা ২৯ এপ্রিল
বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে ৯১.৭৮ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা বেশ উল্লেখযোগ্য। দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ হবে ২৯ এপ্রিল এবং ভোট গণনা হবে ৪ মে।

