আরজি কর হাসপাতালে চিকিৎসক খুন ও ধর্ষণ মামলায় সিবিআই চার চিকিৎসক, দুই নিরাপত্তা কর্মী সহ আট জনের পলিগ্রাফ টেস্ট করেছে। সিবিআই সূত্রের মতে, তদন্তে সকলেই মিথ্যে বয়ান দিয়েছেন এবং তথ্য গোপন করার চেষ্টা করেছেন।

আরজি করের চিকিৎসক খুন ও ধর্ষণ তদন্তে সিবিআই ইতিমধ্যেই চারজন চিকিৎসক, দুই নিরাপত্তা কর্মী, সন্দীপ ঘোষ ও সঞ্জয় রায়ের পলিগ্রাফ টেস্ট করা হয়েছে। কিন্তু কেন? তার কোনও উত্তর দেয়নি সিবিআই। তবে সিবিআই-এর একটি সূত্র জানিয়েছে ৮ জনের পলিগ্রাফ টেস্টের কারণ। সিবিআই -সূত্র বলছে তদন্তে প্রত্যেকেই মিথ্য কথা কথা বলেছে, তাদের বয়ানও পরস্পর বিরোধী, সেই রাতে নিজের অবস্থান সম্পর্কে প্রত্যেকেই তথ্য গোপন করতে চেয়েছিলেন। সূত্রের খবর প্রত্যেকেই এমন কিছু বলেছিলেন যাতে সিবিআই তদন্তকারীরা বিভ্রান্ত হয়- তাই আসল ঘটনা জানতেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল সিবিআই। অনুমতি পাওয়ার পরে আট জনের পলিগ্রাফ টেস্টও হয়েছে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

পলিগ্রাফ টেস্টের রিপোর্ট নিয়ে মুখে কুপুল এঁটেছে তদন্তকারীরা। সূত্রের খবর পলিগ্রাফ টেস্টের রিপোর্টের পরে তাদের হাতে এসেছে প্রচুর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। সিবিআই সূত্রের খবর পলিগ্রাফ টেস্টের পরই আসল সত্য জানতে সেই রাতে সংশ্লিষ্টরা কোথায় কোথায় ছিল তা জানতে বিশেষ প্রযুক্তির সাহায্য মোবাইল ফোনের টাওয়ার লোকেশন ও কললিস্ট খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বাদ দেওয়া হয়নি নিহত নির্যাতিতার মোবাইল ফোনও। নিহতের বাজেয়াপ্ত করা মোবাইলটিও ট্র্যাক করা হয়েছে। সিবিআই সূত্রের খবর, মোবাইল ফোনের টাওয়ার লোকেশন অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের অবস্থান ও বয়ান পরস্পর বিরোধী হওয়ায় চার চিকিৎসক, দুই নিরাপত্তা কর্মী, সঞ্জয় রায় ও সন্দীপ ঘোষের পলিগ্রাফ টেস্ট করা হয়েছে।

সিবিআই সূত্রের খবর, ঘটনার রাতে নিহত নির্যাতিতা চিকিৎসক চার সহপাঠীর সঙ্গে খাওয়াদাওয়ার পরে সেমিনার হলেই অলিম্পিক্সে নীরজ চোপড়ার জ্যাভলিন থ্রো দেখেছিলেন। তারপর সেমিনার হলেই বিশ্রাম নেন নির্যাতিতা। সিবিআই-এর হাতে কেস হ্যান্ডওভার করার সময় তেমনই তথ্য দিয়েছিল কলকাতা পুলিশ। কিন্তু সিবিআই- অনুমান সেই সময়ই সমস্যা হয়েছিল। সেই সময় নির্যাতিতা আদৌ বেঁছে ছিলেন কিনা, আর সেমিনার হলে ছিলেন কিনা তাই খতিয়ে দেখতে উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ও কললিস্ট খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পলিগ্রাফ টেস্টে পাওয়া তথ্যের সঙ্গেও তা মিলিয়ে দেখা হবে বলেও সূত্রের খবর। সবকিছু মিলিয়ে দেখেই আদালত গ্রাহ্য তথ্য পেশ করতে মরিয়া হয়ে চেষ্টা করছে সিবিআই।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।