- Home
- West Bengal
- Kolkata
- Weather : ভরদুপুরে আকাশ অন্ধকার, কানফাটানো বজ্রপাত! কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে কেন প্রকৃতির এই রুদ্ররূপ?
Weather : ভরদুপুরে আকাশ অন্ধকার, কানফাটানো বজ্রপাত! কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে কেন প্রকৃতির এই রুদ্ররূপ?
Kolkata Weather: বৃহস্পতিবার দুপুরে কলকাতা-সহ গোটা দক্ষিণবঙ্গে প্রকৃতির রুদ্ররূপ দেখা গেল। ভরদুপুরে কানফাটানো বজ্রপাত, মুষলধারে বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় বিপর্যস্ত জনজীবন। কিন্তু কেন এই বজ্রপাত।

ভরদুপুরে আচমকা ভোল বদলাল আকাশের
বৃহস্পতিবার সকালে ভ্যাপসা গরমে হাঁসফাঁস করার পর বেলা বাড়তেই ঘন কালো মেঘে ঢেকে গেল কলকাতার আকাশ। শুধু কলকাতা নয়, পার্শ্ববর্তী জেলাগুলির অবস্থাও একই। শুরু হল এলোপাথাড়ি ঝোড়ো হাওয়া, মুষলধারে বৃষ্টি এবং একের পর এক ভয়াবহ বজ্রপাত। সাম্প্রতিক স্মৃতিতে এত ঘনঘন ও তীব্র বজ্রপাত দেখেনি তিলোত্তমা।

ধর্মতলা থেকে হাইকোর্ট — কেঁপে উঠল গোটা শহর
ধর্মতলা, পার্ক স্ট্রিট, ময়দান ও কলকাতা হাইকোর্ট চত্বরের মতো ব্যস্ত এলাকা কেঁপে ওঠে বাজের প্রচণ্ড শব্দে। রাস্তায় থাকা পথচারী ও নিত্যযাত্রীরা নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছোটেন। পথচারীদের কথায় 'কার্পেট বজ্রপাত'। আকাশে বিদ্যুতের চোখধাঁধানো ঝলকানি আর কানফাটা আওয়াজ। দিনে দুপুরেই আতঙ্কের চেহারা নেয় তিলোত্তমা।
একাধিক এলাকায় জলজট, যানচলাচল স্তব্ধ
ভারী বৃষ্টিতে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, মহাত্মা গান্ধী রোড, আমহার্স্ট স্ট্রিট, দমদম, বাগুইআটি ও সল্টলেক সম্পূর্ণ জলমগ্ন হয়ে পড়ে। ইএম বাইপাস ও মা ফ্লাইওভারে তীব্র যানজটে গাড়ির গতি হয়ে পড়ে অত্যন্ত মন্থর।
পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতেও তাণ্ডব
কেবল কলকাতা নয়, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং নদিয়াতেও তীব্র বজ্রবিদ্যুৎসহ ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া আছড়ে পড়েছে। কলকাতার সঙ্গেই পার্শ্ববর্তী জেলাগুলি দেখলো প্রকৃতির রুদ্ররূপ।
টানা বজ্রপাতের কারণ কী?
আবহাওয়াবিদদের মতে, উত্তর বিহার থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত সক্রিয় নিম্নচাপ অক্ষরেখা এবং উত্তর-পূর্ব বাংলাদেশ সংলগ্ন ঘূর্ণাবর্তের জোড়া প্রভাবে সমুদ্র থেকে বিপুল জলীয় বাষ্প স্থলভাগে প্রবেশ করছে। এর ফলে দ্রুত 'কিউমুলোনিম্বাস' বা বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হচ্ছে, যা এই অস্বাভাবিক বজ্রপাতের জন্য দায়ী। দোসর হিসেবে কাজ করেছে বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া মরশুমের প্রথম ঘূর্ণাবর্ত।
সোমবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে হলুদ সতর্কতা
আবহাওয়া দফতরের বুলেটিন অনুযায়ী, ২৯ জুন পর্যন্ত কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় ঘণ্টায় ৩০-৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির 'হলুদ সতর্কতা' বহাল থাকবে। অর্থাৎ সোমবার পর্যন্ত থাকবে এই চরম আবহাওয়া।
বিশেষ ঝুঁকিতে এই জেলাগুলি
উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম এবং পূর্ব মেদিনীপুরে বিক্ষিপ্তভাবে প্রবল বজ্রপাতের আশঙ্কা বিশেষভাবে বেশি।
উত্তরবঙ্গে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ — লাল সতর্কতা
দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে ২০ সেন্টিমিটারেরও বেশি অতিভারী বৃষ্টির কারণে 'লাল ও কমলা সতর্কতা' জারি রয়েছে। তিস্তা, তোর্সা, বালসনের জলস্তর বিপজ্জনকভাবে বাড়ছে এবং পাহাড়ি এলাকায় ধসের তীব্র আশঙ্কা রয়েছে।
মঙ্গলবারের দুর্যোগে প্রাণ গিয়েছে ১০ জনের
গত মঙ্গলবারের ভয়াবহ বজ্রপাতে রাজ্যে মোট ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। কোচবিহারে ২ জন, মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানে ৪ জন, মালদহে ২ জন এবং পুরুলিয়ায় ২ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
সুরক্ষিত থাকুন — আবহাওয়া দফতরের পরামর্শ
বজ্রপাতের সময় পাকা বাড়ির ভেতরে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার জন্য সাধারণ মানুষকে বিশেষভাবে সতর্ক করেছে আবহাওয়া দফতর। একই সঙ্গে উত্তাল সমুদ্রে মৎস্যজীবীদের যাওয়ার উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

