পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ঝড়। একদিকে পৌরসভা নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রের বাড়িতে ইডির হানা, অন্যদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতেও তল্লাশি চলছে বলে অভিযোগ। সব মিলিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বিজেপি নেত্রী 

রাজ্য রাজনীতিতে একসঙ্গে ঘটে চলেছে একের পর এক বড় ঘটনা। বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক লকেট চট্টোপাধ্যায়ের দাবি অনুযায়ী, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কলকাতার বাসভবনে তল্লাশি চালাচ্ছে আইন রক্ষাকারী সংস্থাগুলি। একই সময়ে, পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতি মামলার সূত্রে তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রের সঙ্গে যুক্ত সাতটি ঠিকানায় তল্লাশি চালাচ্ছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

বিজেপি নেত্রীর দাবি

বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, তৃণমূল দল আজ বিপর্যস্ত। দুর্নীতির কারণেই এই দলের বেহাল দশা। তিনি আরও বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এখন অতীত। মানুষ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে তা আইন অনুযায়ী। তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে তুলনা করেন। তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে একগুচ্ছ সরকারি প্রকল্প চলছিল। কিন্তু সেগুলি সঠিকভাবে চলানো হচ্ছিল না। আর যদি চালনো হতো তাহলে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জনতার দরবারে এতোটা ভিড় হতো না। তিনি আরও বলেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী যদি মানুষের সমস্যার সমাধান করতেন তাহলে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী দরবার এত মানুষ আসতোই না।

মমতার বিরুদ্ধে জোড়া এফআইআর

এই উত্তেজনার মাঝেই খবর, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছে এফআইআর। অভিযোগ, স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (SIR)-বিরোধী এক প্রতিবাদ সভায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে সাম্প্রদায়িক মন্তব্য করেছেন তিনি— তাঁর নেতৃত্বেই তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত, এবং বিজেপির "বিভ্রান্তিকর" বক্তব্যে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন বলে অভিযোগ।

তৃণমূলে ভাঙন

এদিকে দলত্যাগী তৃণমূল নেতা ও বিধানসভায় বিরোধী দলের উপনেতা সন্দীপন সাহার দাবি, বিক্ষুব্ধ শিবিরে যোগ দেওয়া তৃণমূল বিধায়কের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৪-এ। তাঁর কথায়, "শুরুতে সংখ্যাটা ছিল ৫৮। এত বিধায়ক যোগ দেবেন ভাবিনি। ৫৮ থেকে বেড়ে এখন ৬৪।"

বিপাকে অভিষেক

এর মধ্যেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিশ্চিত করেছেন, একটি বক্তব্য-সংক্রান্ত মামলায় CID-র নোটিস পেয়েছেন তিনি এবং ১৪ জুন হাজিরা দেবেন। তাঁর বক্তব্য, "আমাকে CID তলব করেছিল। সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ছিলাম। ১৪ তারিখ আবার ডাকা হয়েছে, যাব। আমি সবসময় তদন্তে সহযোগিতা করি।"

সরকার বদলের পর তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের হচ্ছে বলে অভিযোগ করে অভিষেক প্রশ্ন তোলেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের "উত্তেজক বক্তব্যের" বিরুদ্ধে কেন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি আরও বলেন, "CID-র সূত্র উদ্ধৃত করে অনেকে খবর করছে। এই সাব-জুডিস বিষয়ে আমি কোনো তথ্য শেয়ার করিনি, তাই এই তথ্য বাইরে আসা নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হব। এক ইঞ্চিও ছাড়ব না। এজেন্সিকে ভয় পাই না।"

সাম্প্রতিক স্বাক্ষর-জালিয়াতি মামলায় আইনজীবী বদল নিয়ে তাঁকে "অহংকারী" বলে কটাক্ষ করেছিলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়— এই প্রসঙ্গে অভিষেক বিতর্ক বাড়াতে চাননি। তাঁর কথায়, "ওঁর বিরুদ্ধে কিছু বলব না। আমাদের মতানৈক্য ব্যক্তিগত, কোনো ক্ষোভ নেই। দলীয় বিষয় প্রকাশ্যে আলোচনা করা ঠিক নয়।"

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা— বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদ জগদীশ বর্মা বসুনিয়া জানিয়েছেন, প্রায় ২০ জন বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদ সোমবার লোকসভার স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে "জাতীয় স্বার্থে" NDA-কে সমর্থনের কথা জানাবেন। তাঁর কথায়, "সোমবার সময় দেওয়া হয়েছে। সব বিদ্রোহী সাংসদ দিল্লি যাচ্ছেন। রবিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক, তারপর সোমবার স্পিকারের সঙ্গে দেখা। ১৯ জন সাংসদ থাকবেন।"