WB SSC Recruitment Update: এসএসসি-র নিয়োগ নিয়ে বড় আপডেট স্কুল সার্ভিস কমিশনের। কবে থেকে নিয়োগ প্রক্রিয়া ঠিকঠাক ভাবে হবে ২০১৬-র চাকরি প্রার্থীদের? কী বলছে কমিশন? বিশদে জানতে পড়ুন সম্পূর্ণ প্রতিবেদন।।

WB SSC Recruitment Update: সরকারের পালা বদলেও কাটছে না এসএসসি মামলার জট। এবার নতুন করে বিপাকে ২০১৬ সালের চাকরি প্রার্থীরা। সূত্রের খবর, OBC জটের কারণে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে একাদশ-দ্বাদশে সুপারিশপত্র পাওয়া প্রার্থীদের নিয়োগ এবং নবম-দশমে তথ্য যাচাই হয়ে যাওয়া ১৫ হাজার হবু শিক্ষকের নিয়োগ প্রক্রিয়া। কারণ, ওবিসি সংরক্ষণে সাত নয় ১৭ শতাংশ নীতি কার্যকর হবে। আর তা নিয়ে আইনজীবীদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান এসএসসি-র চেয়ারম্যান দুষ্মন্ত নারিয়াল।

কী বললেন এসএসসি-র চেয়ারম্যান দুষ্মন্ত নারিয়াল?

তিনি বলেন, ''১৪ অগাস্ট থেকে এসএসসি-র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির নিয়োগের সুপারিশপত্র দেওয়ার কাজ আপাতত স্থগিত থাকবে।'' ফলে বর্তমানে যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তাতে ৩১ অগাস্টের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। ফলে চরম সমস্যার সম্মুখীন হবেন ২০১৬-র ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকারা। ফলে সুপ্রিম কোর্টের কাছেও অতিরিক্ত সময় চাইতে পারে বোর্ড।

অন্যদিকে এসএসসি বা স্টাফ সিলেকশন কমিশনের বিভিন্ন পোস্টে চাকরিতে নিয়োগে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবার একগুচ্ছ কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল পশ্চিমবঙ্গ স্টাফ সিলেকশন কমিশন।

সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং দ্রুততার সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাই মূল লক্ষ্য— এমনটাই জানালেন পশ্চিমবঙ্গ স্টাফ সিলেকশন কমিশনের চেয়ারম্যান বিবেক সহায়। সল্টলেকের ময়ূখ ভবনে কমিশনের অফিসে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে তিনি কমিশনের সদস্য গঙ্গেশ্বর সিংকে সঙ্গে নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ও ভবিষ্যতের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

স্বচ্ছতা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার:- 

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে চেয়ারম্যান বলেন, "নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতাই আমাদের মূল মন্ত্র"। পরীক্ষার্থীদের আস্থা ফেরাতে এবং অনিয়ম রুখতে বেশ কিছু নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। ওএমআর শিটের কপি সরবরাহ: স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য পরীক্ষার্থীদের তাঁদের ওএমআর শিটের কপি দেওয়ার পরিকল্পনা রযেছে।

ইন্টারভিউয়ের নম্বরে নিয়ন্ত্রণ: ইন্টারভিউ বা মেধা তালিকায় অহেতুক নম্বর বা কারচুপির অভিযোগ বন্ধ করতে ইন্টারভিউয়ের নম্বর নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে যুক্তিসঙ্গত করা হবে। যেসব পদে মানুষের সাথে যোগাযোগের বিষয় যুক্ত, সেখানে ইন্টারভিউয়ের গুরুত্ব বজায় থাকলেও অন্যান্য সাধারণ পদের ক্ষেত্রে মূলত লিখিত পরীক্ষার ফলাফলের ওপরই জোর দেওয়া হবে।

প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার: স্বচ্ছতার উদ্দেশ্যে ওএমআর বেসড পরীক্ষার পাশাপাশি সিবিটি পদ্ধতির ওপরও জোর দেওয়া হবে। দেশের অন্যান্য রাজ্য ও কেন্দ্রীয় কমিশনগুলোর সেরা অনুশীলন অনুসরণ করা হবে।

১০০ পয়েন্ট রোস্টার ও বাংলা ভাষার জ্ঞান:

তিনি আরও স্পষ্টভাবে জানান, সরকারি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১০০ পয়েন্ট রোস্টার শতভাগ কঠোরভাবে মেনে চলা হবে, যাতে রোস্টারের বাইরে নিয়োগের যে কোনো অভিযোগ পুরোপুরি বন্ধ করা যায়। এছাড়া, রাজ্য সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের ক্ষেত্রে বাংলা ভাষার জ্ঞান যাচাইয়ের প্রক্রিয়াও বহাল থাকবে।

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ ও রিম্যান্ডেট:

গত ৩০ তারিখ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে পিএসসি, এসএসসি, হেলথ কমিশনসহ অন্যান্য রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের সঙ্গে আয়োজিত বৈঠকের কথা উল্লেখ করেন চেয়ারম্যান। তিনি জানান, কমিশনগুলির ওভারল্যাপিং (একই কাজ একাধিক কমিশনের করা) এড়াতে এবং ম্যান্ডেট স্পষ্ট করতে রিম্যান্ডেটের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নবান্ন থেকে হতে পারে।

কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কারিগরি শিক্ষা দফতরের ইনস্ট্রাক্টর, লোয়ার ডিভিশন ক্লার্ক, আবগারি দপফতরের এএসআই, ফায়ার ইঞ্জিন অপারেটর, স্টেনোগ্রাফার, মোটর ভেহিকেল ইন্সপেক্টরসহ বিভিন্ন পদের নিয়োগ বোর্ড তাদের নির্ধারিত রোডম্যাপ মেনে স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাবে।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।