- Home
- West Bengal
- Kolkata
- বিজেপি ক্ষমতায় এলে বদলে যাবে রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিউটির সময়? বিরাট আপডেট, নবান্ন জুড়ে তৎপরতা শুরু
বিজেপি ক্ষমতায় এলে বদলে যাবে রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিউটির সময়? বিরাট আপডেট, নবান্ন জুড়ে তৎপরতা শুরু
২০২৬ সালে বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ডিউটির সময় এবং বেতন কাঠামোয় কী পরিবর্তন আসতে পারে? সপ্তম বেতন কমিশন এবং কর্মসংস্কৃতি নিয়ে জানুন বিস্তারিত আপডেট।

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে উত্তাল রাজ্যের রাজনীতি। বিশেষ করে রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিউটির সময় এবং সুযোগ-সুবিধা নিয়ে নবান্নের অন্দরে জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে। বিজেপি ক্ষমতায় আসার ফলে রাজ্য প্রশাসনের কর্মসংস্কৃতি এবং কর্মীদের ডিউটির সময়সূচীতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
বেতন ও ভাতার বড় প্রতিশ্রুতি: বিজেপির নির্বাচনী ইশতেহার বা 'সংকল্প পত্রে' সরকারি কর্মীদের জন্য বড় ঘোষণা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, বিজেপি সরকার গঠনের ৪৫ দিনের মধ্যেই রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য সপ্তম বেতন কমিশন (7th Pay Commission) কার্যকর করা হবে।
এর পাশাপাশি কর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) বা মহার্ঘ ভাতা মিটিয়ে দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের ডিএ-র মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশের পার্থক্য রয়েছে, যা বিজেপি ক্ষমতায় এলে মেটানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
কর্মসংস্কৃতি ও ডিউটির সময়ে সম্ভাব্য পরিবর্তন: বিজেপি শাসিত অন্যান্য রাজ্য এবং কেন্দ্রের কর্মসংস্কৃতির মডেল পশ্চিমবঙ্গেও প্রয়োগ করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারি অফিসগুলিতে সকাল ৯:১৫ মিনিটের মধ্যে হাজিরা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে; অন্যথায় নৈমিত্তিক ছুটি (Casual Leave) কাটার নিয়ম রয়েছে।
রাজ্য বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ অতীতে মন্তব্য করেছিলেন যে, কাজ না করে সরকারি কর্মীদের অভ্যাস খারাপ হয়ে গেছে এবং বিজেপি ক্ষমতায় এলে কর্মীদের পুরো সময় নিষ্ঠার সাথে কাজ করতে হবে।
পাঁচ দিনের কর্মদিবস কি বাতিল হবে? সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ দিনের কর্মদিবস (5-day work week)। ছত্তিশগড়ের মতো বিজেপি শাসিত রাজ্যে ইতিমধ্যেই পাঁচ দিনের কর্মদিবস বাতিল করে পুনরায় ছয় দিন করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যাতে প্রশাসনিক গতি বাড়ে।
পশ্চিমবঙ্গেও বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে কর্মীরা বিশেষ ছুটি ভোগ করেন, যা নতুন সরকার এলে প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে বদলে যেতে পারে।
প্রশাসনিক সংস্কার ও স্বচ্ছতা: বিজেপি তাদের ইশতেহারে জানিয়েছে, তৃণমূল সরকারের গত ১৫ বছরের আমলের দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা নিয়ে একটি 'শ্বেতপত্র' প্রকাশ করা হবে। এছাড়া ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সমস্ত শূন্যপদে স্বচ্ছ মেধা-ভিত্তিক নিয়োগ সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি রুখতে 'কাট মানি' ও 'সিন্ডিকেট' সংস্কৃতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
সার্ভিস রুল ও শৃঙ্খলা: পশ্চিমবঙ্গ সার্ভিস রুল (West Bengal Service Rule) অনুযায়ী, একজন সরকারি কর্মীর পুরো সময় সরকারের অধীনে থাকে এবং প্রয়োজনে তাকে যেকোনোভাবে নিয়োজিত করা যেতে পারে। বিজেপি নেতৃত্ব ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ডিএ এবং বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি কাজের মান ও সময়ের ক্ষেত্রেও কোনো আপস করা হবে না।
রাজ্যে বিজেপি সরকার কাজ শুরু করলে একদিকে যেমন বেতন বৃদ্ধি ও বকেয়া পাওনা মেটানোর সম্ভাবনা রয়েছে, অন্যদিকে কঠোর শৃঙ্খলা এবং ডিউটির সময়ের কড়াকড়ি নিয়ে কর্মীদের প্রস্তুত থাকতে হতে পারে। নবান্ন জুড়ে এখন এই পরিবর্তন ঘিরেই শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

