KSDC: পৃথক রাজ্যের দাবিতে আন্দোলনের অন্যতম মুখ জীবন সিংহ সমর্থিত সংগঠন কামতাপুর স্টেট ডিমান্ড কাউন্সিল বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী লড়াই থেকে সরে দাঁড়িয়ে বিজেপিকে সমর্থনের ঘোষণা করল। 

ভোটের মুখে উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় পরিবর্তন। পৃথক রাজ্যের দাবিতে আন্দোলনের অন্যতম মুখ জীবন সিংহ সমর্থিত সংগঠন কামতাপুর স্টেট ডিমান্ড কাউন্সিল বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী লড়াই থেকে সরে দাঁড়িয়ে বিজেপিকে সমর্থনের ঘোষণা করল। আর এখানেই উত্তরবঙ্গে বিজেপি অনেকটা এগিয়ে রইল বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

KSDC-এর ঘোষণা

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণার পর উত্তরবঙ্গের ৪০টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার কথা জানিয়েছিল KSDC। ইতিমধ্যেই একাধিক কেন্দ্রে মনোনয়ন জমা দেওয়া এবং জোরদার প্রচারও শুরু হয়ে গিয়েছিল। তবে ভোটের ঠিক আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাসকে গুরুত্ব দিয়ে সংগঠনটি তাদের সমস্ত প্রার্থীকে প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেয়। পাশাপাশি কর্মী-সমর্থকদের বিজেপির হয়ে প্রচারে নামার আহ্বান জানানো হয়েছে।

কামতাপুর রাজ্যের দাবি

দীর্ঘদিন ধরে উত্তরবঙ্গে পৃথক রাজ্যের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছে KSDC। সংগঠনের অভিযোগ, কেএলও প্রধান জীবন সিংহ এবং ডি এল কোচের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। এই ইস্যুকে সামনে রেখে সংগঠনটি উত্তরবঙ্গ জুড়ে একাধিক কর্মসূচি ও আন্দোলন করেছে। এমনকি সভানেত্রী তপতী রায় মল্লিক, জীবন সিংহ এবং ডি এল কোচকে নিয়ে দিল্লিতে একাধিকবার বৈঠকেও অংশ নেওয়া হয়েছিল। তবে আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তারা।পরবর্তীতে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তরফে উত্তরবঙ্গের জনসভাগুলিতে রাজবংশী ভাষাকে অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা এবং জীবন সিংহ ও ডি এল কোচের সঙ্গে শান্তি চুক্তির বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে দাবি সংগঠনের। সেই আশ্বাসের ভিত্তিতেই নির্বাচনী লড়াই থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে KSDC।

এদিন সাংবাদিক বৈঠকে সংগঠনের সভানেত্রী তপতী রায় মল্লিক বলেন, “আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি মাতৃভাষার স্বীকৃতি এবং পৃথক রাজ্যের আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। কেন্দ্রীয় সরকারের আশ্বাসে আস্থা রেখে আমরা নির্বাচনী লড়াই থেকে সরে এসে নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহের হাত শক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”