মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে তেল ও গ্যাসের সঙ্কটে ভুগছে সারা বিশ্ব। ইরান, ইজরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে হরমুজ প্রণালীর ওপর—একটি সংকীর্ণ সামুদ্রিক পথ, যার মধ্য দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। ভারতেও গ্যাস সরবরাহে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে তেল ও গ্যাসের সঙ্কটে ভুগছে সারা বিশ্ব। ইরান, ইজরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে হরমুজ প্রণালীর ওপর—একটি সংকীর্ণ সামুদ্রিক পথ, যার মধ্য দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। ভারতেও গ্যাস সরবরাহে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। সরকার জানিয়েছে যে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। তা সত্ত্বেও, ঘরোয়া এলপিজি এবং পিএনজি-কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, পাশাপাশি হাসপাতাল এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এলপিজির চাহিদার ভারসাম্য বজায় রাখতে সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। শোধনাগারের উৎপাদন ৩৮% বাড়ানো হয়েছে এবং শহরাঞ্চলে সিলিন্ডার বুকিংয়ের ব্যবধান ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন এবং গ্রামাঞ্চলে ৪৫ দিন করা হয়েছে।
এছাড়াও, সরকার একটা বড় সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে। ভারতে ডোমেস্টিক সিলিন্ডারে ১৪.২ কেজি গ্যাস থাকে। যদিও সরবরাহ পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হতে থাকে তাহলে এবার সিলিন্ডারগুলিতে ৭ বা ১০ কেজি গ্যাস ভরা হবে। তেমনই ১০ কেজির প্লাস্টিক সিলিন্ডারে দেওয়া হবে ৫ কেজি গ্যাস। ওজনের ভিত্তিতে ঠিক হবে দাম। আর সেটাই বাড়ি বাড়ি সাপ্লাই করা হবে। যদিও এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় পেট্রলিয়াম মন্ত্রক এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা হয়েছে বলেই সূত্রের খবর। সিলিন্ডারে গ্যাসের পরিমাণ কমানো হলেও বুকিংয়ের নিয়ম অপরিবর্তিত থাকবে। ১০ কেজির প্লাস্টিক সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে ১৫ দিন, ১৪.২ কেজির সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে শহরাঞ্চলে ২৫ দিন এবং গ্রামাঞ্চলে ৪৫ দিনের যে সীমারেখা রয়েছে, তাতে কোনও বদল আসবে না।
শনিবার পেট্রলিয়াম মন্ত্রক ঘোষণা করেছে, বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের সরবরাহ আরও ২০ শতাংশ বাড়িয়ে মোট ৫০ শতাংশ করা হবে। চিঠিতে বলা হয়েছে যে বর্তমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে অতিরিক্ত ২০ শতাংশ এলপিজি বরাদ্দ করা হচ্ছে, যার ফলে মোট সরবরাহ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের জেরে সঙ্কটের আগের ৫০ শতাংশে পৌঁছেছে। সরকার স্পষ্ট করেছে যে এই অতিরিক্ত এলপিজি উচ্চ চাহিদা ও প্রয়োজনীয়তা সম্পন্ন ক্ষেত্রগুলিতে অগ্রাধিকার পাবে। এর মধ্যে রয়েছে রেস্তরাঁ, ধাবা, হোটেল, শিল্প কারখানার ক্যান্টিন, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং দুগ্ধ উৎপাদন কেন্দ্র। তবে পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে তাতে রান্নার গ্যাসের দাম আরও এক দফা বাড়াতে পারে কেন্দ্র।
হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরতা কমাতে ভারত এলপিজি-র জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। এর সুফল এখন দৃশ্যমান। টেক্সাস থেকে আসা ‘পিক্সিস পায়োনিয়ার’ নামের একটি জাহাজ রবিবার সকালে ম্যাঙ্গালুরু বন্দরে এসে পৌঁছেছে। ২৫ মার্চ ‘অ্যাপোলো ওশান’ ইন্ডিয়ান অয়েল এবং ভারত পেট্রোলিয়ামের জন্য ২৬,৬৮৭ টন গ্যাস নিয়ে আসবে। ২৯ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও একটি জাহাজ ৩০,০০০ টন গ্যাস নিয়ে এসে পৌঁছাবে—যা এইচপিসিএল-এর জন্য।


