রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা দেওয়া শুরু হবে এই মাস থেকেই। এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে একথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছেন, চলতি মাস থেকেই ডিএ দেওয়া শুরু হবে।

রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা দেওয়া শুরু হবে এই মাস থেকেই। এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে একথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার বিকেলে দিল্লির বিজ্ঞান ভবন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করবে ভারতের নির্বাচন কমিশন। তার ঠিক খানিক আগে বকেয়া ডিএ দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, চলতি মাস থেকেই ডিএ দেওয়া শুরু হবে।

এক্স হ্যান্ডেলে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, “আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে আমাদের ‘মা-মাটি-মানুষ’ সরকার তার সকল কর্মচারী ও পেনশনভোগী, আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহের লক্ষ লক্ষ শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী, এবং পঞ্চায়েত, পৌরসভা ও অন্যান্য স্থানীয় সংস্থার মতো অনুদান-প্রাপ্ত (grant-in-aid) প্রতিষ্ঠানসমূহের কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের প্রতি কৃত প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছে। আমাদের অর্থ দফতর কর্তৃক জারিকৃত বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত পদ্ধতি ও নির্দেশিকা অনুযায়ী, তাঁরা ২০২৬ সালের মার্চ মাস থেকে তাঁদের ‘ROPA 2009’-এর বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA arrears) পেতে শুরু করবেন।”

Scroll to load tweet…

নবান্ন সূত্রে খবর, অর্থ দফতর ইতিমধ্যেই এই বকেয়া মেটানোর পদ্ধতি নিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। সেই নির্দেশিকা মেনেই ২০২৬ সালের মার্চ মাস থেকে ধাপে ধাপে বকেয়া টাকা সংশ্লিষ্ট কর্মীদের অ্যাকাউন্টে ঢুকতে শুরু করবে।

পশ্চিমবঙ্গে বকেয়া ডিএ-র জন্য আন্দোলন দীর্ঘ দিনের। ২০০৯ সালের বেতন কাঠামো অর্থাৎ রোপা-২০০৯ অনুযায়ী, ডিএ দেওয়ার দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের একাংশ গত তিন বছরের বেশি সময় ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। এই আন্দোলনের নেতৃত্বে রয়েছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। ১৩ তারিখ বকেয়া ডিএ-র দাবি এই মঞ্চের ডাকে ধর্মঘট পালন করা হয়।

গত ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ সুপ্রিম কোর্ট বকেয়া মহার্ঘ ভাতার ২৫ শতাংশ অবিলম্বে মিটিয়ে দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিল। ৩১ মার্চের মধ্যে এই বকেয়া মেটাতে হবে রাজ্য সরকারকে। বাকি ৭৫ শতাংশ ডিএ দেওয়া নিয়ে কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে চার সদস্যের কমিটি হবে। বকেয়া কী ভাবে, কতগুলি কিস্তিতে দিতে হবে সে বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে ওই কমিটি। ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি তারলোক সিং চৌহান এবং বিচারপতি গৌতম ভাদুরি এই কমিটিতে থাকছেন। এছাড়াও, আর্থিক ও নিরীক্ষা সংক্রান্ত মতামত দেওয়ার জন্য আদালত ভারতের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল অথবা সেই প্রতিষ্ঠান থেকে মনোনীত একজন সিনিয়র আধিকারিককে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদের অধীনে মহার্ঘ ভাতাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে উল্লেখ করেনি সুপ্রিম কোর্ট। তবে জানিয়েছে, মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) পাওয়ার অধিকারটি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কর্মচারীদের জন্য একটি আইনত অধিকার।