West Bengal Assembly Election 2026: পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। আসাম, কেরালা এবং পুদুচেরিতে নির্বাচন আগামী ৯ এপ্রিল এক দফায় অনুষ্ঠিত হবে। পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুতে ভোটগ্রহণ শুরু হবে ২৩ এপ্রিল থেকে। পশ্চিমবঙ্গে ভোট হবে দুই দফায়। যার দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে ২৯ এপ্রিল।
West Bengal Assembly Election 2026: পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। আসাম, কেরালা এবং পুদুচেরিতে নির্বাচন আগামী ৯ এপ্রিল এক দফায় অনুষ্ঠিত হবে। পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুতে ভোটগ্রহণ শুরু হবে ২৩ এপ্রিল থেকে। পশ্চিমবঙ্গে ভোট হবে দুই দফায়। যার দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে ২৯ এপ্রিল। সবকটি রাজ্যের নির্বাচনের ফলাফল ৪ মে (সোমবার) ঘোষণা করা হবে। বিধানসভা নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালট (Postal Ballot) ব্যবহার করা হবে। উদ্দেশ্য হল বিশেষ শ্রেণির ভোটারদের সুবিধা দেওয়া। যাতে তাঁরা সহজেই তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। এই সকল শ্রেণির ভোটারদের পোস্টাল ব্যালট ব্যবহার করার জন্য কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। এটি একটি ঐচ্ছিক সুবিধা এবং এর সঙ্গে পোস্ট অফিসের ডাক ব্যবস্থার কোনও যোগসূত্র নেই।
কারা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে পারবেন
১৯৫১ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ৬০ ধারায় নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির ব্যক্তিদের পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য একটি বিশেষ পদ্ধতি প্রদান করা হয়েছে। এদের অনুপস্থিত ভোটার হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়।‘নির্বাচন পরিচালনা বিধি, ১৯৬১’-এর বিধি ২৭A সংশোধন করা হয়েছে, যাতে “অনুপস্থিত ভোটার”-দের (Absentee Voters) জন্য ঐচ্ছিক ডাক-ব্যালট (postal ballot) সুবিধা প্রদান করা যায়। ‘নির্বাচন পরিচালনা বিধি, ১৯৬১’-এর বিধি ২৭A-এর দফা (aa)-তে “অনুপস্থিত ভোটার”-এর সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন—জরুরি পরিষেবায় নিযুক্ত ব্যক্তিগণ [AVES], প্রবীণ নাগরিকগণ (৮৫ বছরের বেশি বয়সী)[AVSC], প্রতিবন্ধী ব্যক্তিগণ (যাদের ‘বেঞ্চমার্ক’ বা তার অধিক মাত্রার প্রতিবন্ধিতা রয়েছে)[AVPD] এবং কোভিড-১৯ সন্দেহভাজন বা আক্রান্ত ব্যক্তিগণ[AVCO]। তাঁরা যদি চান, তাহলে ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে পারবেন। তবে, একবার আবেদন করে পোস্টাল ব্যালট পাওয়ার পর তাঁরা ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে পারবেন না।
কী কী নিয়ম মানতে হবে
কোনও অনুপস্থিত ভোটার যদি পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে ইচ্ছুক হন, তবে তাঁকে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার রিটার্নিং অফিসারের (RO) নিকট আবেদন করতে হবে। এই আবেদনটি ‘নির্বাচন পরিচালনা বিধি, ১৯৬১’-এর সঙ্গে সংযুক্ত ‘ফর্ম-১২D’-তে করতে হবে এবং এতে প্রয়োজনীয় সকল বিবরণ উল্লেখ করতে হবে। পোস্টাল ব্যালট সুবিধা চেয়ে করা এই ধরনের আবেদনপত্রগুলো নির্বাচন ঘোষণার তারিখ থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারির পরবর্তী পাঁচ দিন পর্যন্ত সময়ের মধ্যে রিটার্নিং অফিসারের (RO) নিকট পৌঁছতে হবে।
প্রতিবন্ধী (PwD) শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত অনুপস্থিত ভোটারদের (AVPD) ক্ষেত্রে আবেদনপত্রের (ফর্ম-১২D) সঙ্গে শংসাপত্রের কপি জমা দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রের (Polling Station) আওতাধীন এলাকায় বসবাসকারী AVSC, AVPD এবং AVCO শ্রেণির অনুপস্থিত ভোটারদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে BLO (বুথ লেভেল অফিসার) সাক্ষাৎ করবেন। তিনি সংশ্লিষ্ট ভোটারদের নিকট ‘ফর্ম-১২D’ পৌঁছে দেবেন এবং তাঁদের কাছ থেকে প্রাপ্তিস্বীকারপত্র (acknowledgement) সংগ্রহ করবেন। যদি কোনও ভোটারকে পাওয়া না যায়, তবে BLO (বুথ লেভেল অফিসার) তাঁর যোগাযোগের বিবরণ সংগ্রহ করবেন এবং বিজ্ঞপ্তির পাঁচ দিনের মধ্যে পুনরায় গিয়ে তা সংগ্রহ করে আনবেন। ভোটার চাইলে 'পোস্টাল ব্যালট' গ্রহণের বিষয়টি বেছে নিতে পারেন, আবার নাও নিতে পারেন। যদি তিনি পোস্টাল ব্যালট গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন, তবে BLO বিজ্ঞপ্তির পাঁচ দিনের মধ্যে ভোটারের বাড়ি থেকে পূরণ করা 'ফর্ম 12D' সংগ্রহ করবেন এবং অবিলম্বে তা RO (রিটার্নিং অফিসার)-এর কাছে জমা দেবেন।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা
এরপর রিটার্নিং অফিসাররা এগুলি যাচাই করেন। যাদের পোস্টাল ব্যালটের জন্য আবেদন মঞ্জুর হবে তাঁদের নামের তালিকা স্বীকৃত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের কাছে মুদ্রিত হার্ডকপি আকারে দেওয়া হবে।
এরপর একটি ভোটগ্রহণকারী দল—যাতে ২ জন ভোটগ্রহণ আধিকারিক থাকবেন (যাদের মধ্যে অন্তত একজন এমন পদমর্যাদার হতে হবে যা ভোটকেন্দ্রে নিযুক্ত 'পোলিং অফিসার'-এর পদমর্যাদার চেয়ে নিম্ন নয়), একজন মাইক্রো অবজারভার, একজন ভিডিওগ্রাফার এবং নিরাপত্তা রক্ষী থাকবেন। একটি 'ভোটিং কম্পার্টমেন্ট' (ভোটদানের আড়াল) সঙ্গে নিয়ে ভোটারের ঠিকানায় যাবেন। সেখানে তাঁরা ভোটের পূর্ণ গোপনীয়তা বজায় রেখে ভোটারকে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটদান করাবেন। প্রার্থীদের এই ভোটারদের একটি তালিকা আগেই দেওয়া হবে। পাশাপাশি তাঁদের ভোটগ্রহণের সময়সূচি এবং ভোটগ্রহণকারী দলগুলোর যাত্রাপথের (রুট চার্ট) বিবরণও দেওয়া হবে, যাতে তাঁরা ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়াটি প্রত্যক্ষ করার জন্য তাঁদের প্রতিনিধি পাঠাতে পারেন। ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পর পোস্টাল ব্যালটগুলো রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক নিরাপদে সংরক্ষণ করা হবে।


