প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শ কিনা জানা নেই, কিন্তু একুশে জুলাইয়ের সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নাম শোনা গেল না। বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের কটাক্ষ, নির্বাচনের ফলে ভয় পেয়েই প্রধানমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম নেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 

আরও পড়ুন- তৃণমূলের মেগা ফ্লপ শো, একুশে জুলাইয়ের সভাকে তীব্র কটাক্ষ দিলীপের

এ দিন প্রায় ঘণ্টাখানেকের সভায় অধিকাংশ সময়টাই বিজেপি-কে আক্রমণে বরাদ্দ করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কাটমানির পাল্টা ব্ল্যাকমানি, উত্তরপ্রদেশে সোনভদ্রের ঘটনা,  কেন্দ্রীয় সরকারের উজালা প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ, ধর্মীয় ভেদাভেদের মতো অভিযোগ তুলে কেন্দ্রের শাসক দলকে আক্রমণ করেন তৃণমূলনেত্রী। এমনও দাবি করেন, অত্যাচারের কারণে সদ্য ক্ষমতায় আসা কেন্দ্রীয় সরকার দু' বছরের মধ্যেই ক্ষমতাচ্যুত হবে। কিন্তু একবারও তাঁর মুখে নরেন্দ্র মোদী বা অমিত শাহের নাম শোনা যায়নি। 

আরও পড়ুন- একুশের মঞ্চে কাটমানির ড্যামেজ কন্ট্রোল, পাল্টা ব্ল্যাক মানি আন্দোলনের নির্দেশ মমতার

অথচ সাম্প্রতিক কালে যে কোনও জনসভাতে নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহকেই মূলত নিশানা করতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ দিনও বিলগ্নীকরণ, সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করেছেন মমতা। কিন্তু নাম করেননি মোদী- শাহের।

এ দিন বরং নাম না করেও বিজেপি-র রাজ্য নেতাদের আক্রমণ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কাটমানি ফেরত চাওয়া প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপি-র নেতাদের কুঁচো চিংড়ি, ল্যাটা মাছ বলেও কটাক্ষ করেন তৃণমূলনেত্রী। তাঁকে বলতে শোনা, 'এখন দেখছি এমন কিছু নেতা এখানে গলায় গামছা ঝুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে, যাঁদের দু' বছর আগে নামও শুনিনি।'

মমতার এই কৌশলে অবশ্য খুশি বঙ্গ বিজেপি-র নেতারা। তাঁরা মনে করছেন, এভাবে আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বরং তাঁদের গুরুত্ব স্বীকার করে নিয়েছেন। ভয় পেয়েই মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম নেননি বলে দাবি করেছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে দিলীপবাবু বলেন, 'চুনো মাছ না চিংড়ি মাছ সে তো আমরা নির্বাচনে বুঝিয়ে দিয়েছি। যদি আমরা এত নগণ্য হই, তাহলে পঞ্চাশ মিনিটের বক্তব্যে চল্লিশ মিনিট কেন আমাদের জন্য সমর্পণ করলেন। নির্বাচনের ফল দেখে আর  অমিত শাহ এবং নরেন্দ্র মোদীর নাম নেওয়ার ভুল করেননি।' দিলীপবাবু আরও বলেন, 'আমি গলায় গামছা রাখি। এতদিন উনি নাম নিতেন না, এখন নিচ্ছেন। তার মানে উনি ভয় পাচ্ছেন। একজন নয়, বাংলায় একাধিক এমন নেতা বিজেপি তৈরি করেছে, যেটা মুখ্যমন্ত্রী আজকে স্বীকার করলেন।'