কৌশিক সেন, রায়গঞ্জ:  নেশার ঘোরে রক্তারক্তি কাণ্ড। মদ্যপ অবস্থায় মেয়ের সামনে স্ত্রীকে 'পিটিয়ে খুন' করল স্বামী! ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জে। অভিযুক্ত পলাতক। 

আরও পড়ুন: বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে দুই বোনকে 'গণধর্ষণ', লোকলজ্জায় ভয়ে আত্মহত্যা একজনের

মৃতার নাম কামনা শিকদার। বাড়ি, রায়গঞ্জে বরুয়া পঞ্চায়েতের খাসপুকুর এলাকার নোয়াপাড়া গ্রামে। স্বামী সুজন ও একমাত্র মেয়ে-কে নিয়ে সংসার। সুজন পেশায় নাপিত। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, প্রতিদিনই আকণ্ঠ মদ্য়পান করে বাড়ি ফিরত সে। এই নিয়ে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে অশান্তিও হত রোজই। নেশায় আপত্তি করলে বা বাধা দিলে স্ত্রী কামনাকে রীতিমতো মারধর করত সুজন। এভাবেই চলছিল।

আরও পড়ুন: বিজেপির মহিলাকর্মীকে গুলি, প্রতিবাদে বিষ্ণুপুর থানা ঘেরাও বিজেপির

জানা দিয়েছে,  মঙ্গলবার ভরদুপুরে যথারীতি মদ্যপ অবস্থায় বাড়ি ফেরে সুজন।  বাড়িতে ঢুকেই ভাত চায় সে। স্ত্রী কামনাও তখন সবেমাত্র অন্য বাড়িতে পরিচারিকার কাজ সেরে ফিরেছেন। স্বামীকে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বলেন তিনি। ব্যস আর যায় কোথায়! রাগের মাথায় স্ত্রীকে সুজন বেধড়ক মারধর করতে শুরু করে বলে অভিযোগ। এমনকী, পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী বড় মেয়ে অনামিকা ভাত বেড়ে দিতে চাইলেও খেতে রাজি হয়নি অভিযুক্ত। শেষপর্যন্ত একসময়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিকে লুটিয়ে পড়েন কামনা এবং মেয়ে চোখের সামনেই মারা যান তিনি। মেয়ের চিৎকার শুনে যখন প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন, ততক্ষণে সব শেষ। এদিকে এই ঘটনার পর পালিয়ে যায় অভিযুক্ত সুজন শিকদার। খবর পেয়ে পুলিশ যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছয়, ততক্ষণে চম্পট দিয়েছে অভিযুক্ত সুজন শিকদারয।মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চলছে।