মা গুরুতর অসুস্থ। ভালো ডাক্তার দেখানোর নাম করে তাঁকে স্টেশনে ফেলে রেখে পালাল ছেলে! শেষপর্যন্ত স্থানীয় বাসিন্দারা ওই বৃদ্ধাকে ভর্তি করলেন হাসপাতালে। অমানবিক ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার নবদ্বীপে।

তার যখন মোটে দেড় বছর, তখন স্বামী হারিয়েছেন। একমাত্র ছেলেকে মানুষ করার জন্য তো কম কষ্ট করেননি। সেই ছেলেই কিনা শেষে এমন আচরণ করল! হতভাগ্য মায়ের আক্ষেপ, এমন সন্তান যেন কারও কপালে না জোটে! বাড়ি ফিরে ছেলেকে প্রশ্ন করতে চান, কেন তিনি এমন কাজ করলেন?

আরও পড়ুন: ছেলের সহপাঠিনী-কে খুন করেছিল মা, হাওড়া আদালত দিল যাবজ্জীবনের সাজা

নদিয়ার চাকদহের রাঙামাটি এলাকায় থাকেন রেখা দাস। বয়স ষাট ছুঁইছুঁই। মঙ্গলবার রাতে তিনি একাই নবদ্বীপ ধাম স্টেশনে বসেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাটি স্থানীয় এক টোটো চালকের নজরে পড়ে। তিনিই রেখাকে উদ্ধার করে নিয়ে যান চটির মাঠ এলাকার একটি মন্দিরে। কিন্তু মন্দিরে থাকাকালীন রাতে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন ওই বৃদ্ধা। বুধবার সকালে তাঁকে নবদ্বীপ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে দেন এলাকার কয়েকজন। স্থানীয় সূত্রের খবর, এখনও হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন রেখা দাস। বাড়ির লোককে খবর দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ঘটনার পর দু'দিন পেরিয়ে গেলেও ওই বৃদ্ধাকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে কেউ আসেননি। 

আরও পড়ুন: ফের ট্রেনের ধাক্কায় হাতির মৃত্যু, ঘটনায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া শুশুনিয়াবাসীর

জানা গিয়েছে, চাকদহে ছেলে, বউমা ও দুই নাতির সঙ্গে থাকেন রেখা। কিন্তু একমাত্র ছেলে সোমনাথের তেমন কোনও রোজগার নেই। পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে সংসার চালান তিনি। দীর্ঘদিন ধরেই শ্বাসকষ্টের সমস্যায় ভুগছেন ওই বৃদ্ধা। মঙ্গলবার রাতে কলকাতায় ভালো ডাক্তার দেখানো নাম করে মা-কে নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন সোমনাথ। কিন্তু মাঝপথে নবদ্বীপ ধাম স্টেশনে রেখাদেবীকে একা ফেলে রেখে তিনি পালিয়ে যান বলে অভিযোগ।