ঝাড়খণ্ডের সারান্ডার জঙ্গলে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকার পর কলকাতা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করলেন মাওবাদী দম্পতি মঙ্গল ও মালতী। শুক্রবার সকালে কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দের হাতে নিজেদের অস্ত্র তুলে দেন তাঁরা। একটি একে-৪৭ এবং একটি ইনসাস রাইফেল জমা দিয়েছেন ওই দম্পতি।
ঝাড়খণ্ডের সারান্ডার জঙ্গলে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকার পর কলকাতা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করলেন মাওবাদী দম্পতি মঙ্গল ও মালতী। শুক্রবার সকালে কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দের হাতে নিজেদের অস্ত্র তুলে দেন তাঁরা। একটি একে-৪৭ এবং একটি ইনসাস রাইফেল জমা দিয়েছেন ওই দম্পতি। মঙ্গল ও মালতী দু’জনেই পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। মঙ্গলের বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে। অন্য দিকে, মালতী ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুরের বাসিন্দা। পরবর্তী সময়ে তাঁরা ঝাড়খণ্ডে গিয়ে মাওবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত হন। পুলিশ সূত্রে খবর, প্রথমে দলমা এলাকায় মাওবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মঙ্গল। পরে সারান্ডার জঙ্গলে সক্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। পরবর্তী সময়ে মালতীও ঝাড়গ্রাম ছেড়ে সারান্ডায় চলে যান। সেখানে বিভিন্ন মাওবাদী কার্যকলাপে তাঁদের নাম জড়ায়।
পুলিশের দাবি, ২০২৬ সালে সারান্ডার জঙ্গলে মাওবাদীদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। সেই কারণে ওই এলাকা ছাড়তে শুরু করেন তাঁরা। এই তালিকায় পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ১৩ জন মাওবাদী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে কয়েক জন বিভিন্ন সময়ে গ্রেফতার হয়েছেন। সম্প্রতি ঝাড়খণ্ড থেকে তিন জন গ্রেফতার হন। কয়েক মাস আগে কলকাতা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন পুষ্পা ওরফে শকুন্তলা। অন্য দিকে, মাওবাদী নেত্রী বেলা গ্রেফতার হন।
কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ জানিয়েছেন, ২০১০ সালে মাওবাদী সংগঠনে যোগ দিয়েছিলেন মঙ্গল। ২০১১-১২ সালের পর তিনি ঝাড়খণ্ডে চলে যান। সেই সময়ে শালবনিতে জনসাধারণের কমিটি সক্রিয় ছিল। পুলিশ কমিশনারের দাবি, মাওবাদী নেতা কিষেণজির ঘনিষ্ঠ ছিলেন মঙ্গল।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ঝাড়খণ্ডে মঙ্গলের বিরুদ্ধে ছয় থেকে সাতটি মামলা রয়েছে। তাঁর মাথার দাম ধার্য করা হয়েছিল ৫ লক্ষ টাকা। অন্য দিকে, মালতীর মাথার দাম ছিল ২ লক্ষ টাকা। ২০১১ সালের ২৪ নভেম্বর বুড়িশোলের জঙ্গলে যখন কিষানজি যৌথ বাহিনীর গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে লুটিয়ে পড়েন, তখন সেখানে সুচিত্রা মাহাতো এবং মঙ্গল ছিলেন। তড়িঘড়ি সেখান থেকে চম্পট দেন তাঁরা। পরে আত্মসমর্পণ করেন সুচিত্রা।
আত্মসমর্পণের পর মঙ্গল বলেন, সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে সমাজের পরিবর্তন সম্ভব নয়। সেই পথ ছেড়ে তাঁরা সমাজের মূল স্রোতে ফিরতে চান। সেই কারণেই কলকাতায় এসে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত জুন মাসে কলকাতা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন মাওবাদী নেত্রী পুষ্পা ওরফে শকুন্তলা। ২০০১ সাল থেকে মাওবাদী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। তার আগের মাসে ঝাড়খণ্ডের প্রবীণ মাওবাদী নেত্রী শ্রদ্ধা বিশ্বাস ওরফে বেলাকে উত্তর কাশীপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশ।








