কৌশিক সেন, রায়গঞ্জ:  লকডাউনের জেরে আটকে পড়েছিলেন ভিনরাজ্যে। স্পেশাল ট্রেনে চেপে উত্তরপ্রদেশ থেকে ফেরার পথে নিখোঁজ হয়ে গেলেন ৫৯ জন পরিযায়ী শ্রমিক! ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জে।

আরও পড়ুন: অসম গেলে ফিরবেন কি করে, আতঙ্কে চলন্ত ট্রেন থেকে ঝাঁপ পরিযায়ী শ্রমিকের

ব্যবধান এক ঘণ্টার। উত্তরপ্রদেশের দানাকর স্টেশন থেকে শুক্রবার দুপুরে দুটি স্পেশাল ট্রেন আসে রায়গঞ্জে। প্রথম ট্রেনে ৭০ জন ও দ্বিতীয় ট্রেনে ৮৭ জন পরিযায়ী শ্রমিকের আসার কথা ছিল। জেলা শ্রমদপ্তর সূত্রে তেমনই খবর মিলেছে। স্টেশনে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর তাঁদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও করে রেখেছিল প্রশাসন। কিন্তু তাতে আর সমস্যা মিটল কই, উল্টে পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে দুঃশ্চিন্তা আরও বাড়ল। 

জানা গিয়েছে, দুপুর দুটো নাগাদ যখন প্রথম ট্রেনটি পৌঁছয়, তখন রায়গঞ্জ স্টেশনে নামেন মাত্র ১১ জন পরিযায়ী শ্রমিক।  তাঁদের বেশিরভাগের বাড়ি স্থানীয় বাহিন পঞ্চায়েত এলাকায়। বাকী ৫৯ জনের এখনও পর্যন্ত খোঁজ মেলেনি। কোথায় গেলেন তাঁরা? প্রশাসনের কাছে সঠিক কোনও তথ্য নেই। কেউ বলছেন, রায়গঞ্জে আগে কোনও স্টেশনে হয়তো নেমে গিয়েছেন ওই ৫৯ জন পরিযায়ী শ্রমিক, তো কারও মতে, স্টেশনে নয়, ট্রেনে গতি একটু কমতেই মাঝ-পথে নেমে গিয়েছেন তাঁরা। তারপর রওনা দিয়েছেন বাড়ির উদ্দেশ্যে। দ্বিতীয় ট্রেন নিয়ে অবশ্য কোনও সমস্যা হয়নি। যে ৮৭ জনের আসার কথা ছিল, তাঁরা সকলেই নেমেছেন রায়গঞ্জে স্টেশনে। 

আরও পড়ুন:করোনা পজিটিভ তিন করোনা শ্রমিকের খোঁজ মিললো মহিষাদলে, স্থানীয়রা চিন্তিত

আরও পড়ুন:পরিযায়ী শ্রমিকদের ছাড়িয়ে এবার মালদহে সাধারণ মানুষের শরীরে করোনা, আক্রান্ত হলেন এক নার্স

এখন প্রশ্ন হল, ওই ৫৯ জনের মধ্যে কেউ যদি করোনা সংক্রমিত হন, তাহলে কি হবে? দুঃশ্চিন্তায় ঘুম উড়েছে উত্তর দিনাজপুর জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকদের। প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চাইছেন না কেউই। তবে ট্রেনটি যে রায়গঞ্জ স্টেশনে পৌঁছানোর আগে বেশ কয়েকটি জায়গায় দাঁড়িয়েছিল, প্রশাসনিক মহল থেকেই সে খবর পাওয়া গিয়েছে। জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়াল জানিয়েছেন, 'প্রশাসনের নজর এড়িয়ে বাইরে থেকে কেউ এলে, গ্রামবাসীরা এলাকায় ঢুকতে দিচ্ছেন না। স্বাস্থ্য পরীক্ষাই শুধু নয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতেও বাধ্য করা হচ্ছে। রায়গঞ্জের আশেপাশে পঞ্চায়েতগুলিকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছি।'