উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি করা হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গে কবে থেকে হবে ঝড়-জল?

আন্দামান ও সংলগ্ন এলাকায় দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রবেশের অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়ে গিয়েছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ১৬ মে-র মধ্যেই বর্ষা আন্দামান সাগর ও আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে প্রবেশ করতে পারে। যদিও দেশের মূল ভূখণ্ডে এখনই বর্ষার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে না, তবে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প প্রবেশের ফলে উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, বর্তমানে একাধিক আবহাওয়াজনিত সিস্টেম সক্রিয় রয়েছে। একটি পূর্ব-পশ্চিম অক্ষরেখা মধ্যপ্রদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গ হয়ে সিকিম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে উত্তরপ্রদেশ ও বিহারেও। পাশাপাশি পূর্ব বাংলাদেশ এবং সংলগ্ন এলাকায় একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে। এছাড়াও উত্তরপ্রদেশের উপর সমুদ্রতল থেকে প্রায় ১.৫ কিলোমিটার উচ্চতায় আরও একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিম ও তৎসংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরের উপর একটি সুস্পষ্ট নিম্নচাপ অঞ্চলও সক্রিয় রয়েছে। যদিও এই নিম্নচাপের সরাসরি প্রভাব পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে পড়ছে না।

এই জোড়া আবহাওয়া সিস্টেমের প্রভাবে উত্তরবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি করা হয়েছে। রবিবার পর্যন্ত দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, কালিম্পং এবং আলিপুরদুয়ারে ভারী বর্ষণ চলতে পারে। বিশেষ করে জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। সেই সঙ্গে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদহেও শনিবার পর্যন্ত বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে দক্ষিণবঙ্গে আপাতত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা কম। তবে পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়ায় রবিবার পর্যন্ত বিক্ষিপ্ত বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে। সঙ্গে ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

কলকাতায় আপাতত বৃষ্টির সম্ভাবনা খুব কম বলেই জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। বরং আগামী দু’দিনে দক্ষিণবঙ্গের তাপমাত্রা তিন থেকে চার ডিগ্রি পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। শুক্রবার সকালে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৭.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি। বৃহস্পতিবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

একদিকে আন্দামানে বর্ষা প্রবেশের অপেক্ষা, অন্যদিকে উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস—সব মিলিয়ে আবহাওয়ার বদলে যাওয়া ছবির দিকে এখন নজর রাজ্যবাসীর।