Nandigram & Rejinagar: নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের বাকি মাত্র ১৫ দিন। BJP প্রচার ও সংগঠন গোছাতে এগোলেও প্রতীক ও প্রার্থী জটে বিরোধী শিবিরে এখনও অনিশ্চয়তা।

নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর- দুই বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে বাকি মাত্র ১৫ দিন। কিন্তু মনোনয়ন দেওয়া থেকে শুরু করে মনোনয়ন প্রত্যাহারের দিন পর্যন্ত দুই কেন্দ্রই সাক্ষী থেকেছে চূড়ান্ত নাটকীয় মুহূর্তের। এই অবস্থায় ভোট প্রচারের অবস্থা কি তা নিয়েই শুরু হয়েছে জল্পনা।

নন্দীগ্রাম

এই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর নিহত আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথ। কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান, যিনি বর্তমানে ১৯ বছর পুরনো একটি মামলায় জেলে রয়েছেন। কিন্তু তিনি জেল থেকেই ভোট যুদ্ধে সামিল হবেন বলেও জানিয়েছে কংগ্রেস। সিপিআই-এর টিকিটে এই কেন্দ্রে লড়বেন শান্তিগোপাল গিরি। ঋতব্রত শিবির প্রার্থী করেছে মহম্মদ এহেতাশ মূল হককে। আর মমতার প্রার্থীর সঞ্চিতা প্রধান মনোনয়ন দাখিল করেও শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকের পর প্রার্থী পদ প্রত্যাহার করেছেন। এই পরিস্থিতিতে মমতা কংগ্রেসকে সমর্থন করবেন বলে ঘোষণা করার পরেই গ্রেফতার হন কংগ্রেস প্রার্থী। সবমিলিয়ে উপনির্বাচনে রীতিমত জমজমাট নন্দীগ্রাম।

প্রচারে এখনও পর্যন্ত এগিয়ে রয়েছেন বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ। এই কেন্দ্রের তাঁর হয়ে বিজেপির প্রায় ৪০ সেলিব্রিটি প্রচার করবেন বলে সূত্রের খবর। ইতিমধ্যেই শুভেন্দু অধিকারী তাঁর সমর্থনে গলা মিলিয়েছেন। নন্দীগ্রাম ভোট যুদ্ধে বাতিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাকিদের অবস্থাও যথেষ্ট শোচনীয়। এই অবস্থায় হাসিরানি দেড় লক্ষ ভোটে জেলার আশায় প্রচারে মনোনিবেশ করেছেন।

রেজিনগর

এই কেন্দ্রেও উপনির্বাচন। মূলত হুয়ামুন করীর রেজিনগর ছাড়ার কারণেই এখানে ভোট। তিনি এখানে প্রার্থী করেছেন তাঁর ছেলে গোলাম নবী আজাদ। কিন্তু তাঁর ছেলেকে সম্প্রতি থানায় ডাকা হয়েছিল। তাঁর দল আম জনতার উন্নয়ন পার্টির তিন সদস্যও গ্রেফতার। এই পরিস্থিতিতে তিনি প্রচার যুদ্ধেই ইতি টানার কথা ঘোষণা করেছেন। জানিয়েছেন ভোটের জন্য আর প্রচার করবেন না তিনি। অন্যদিকে মমতা এই কেন্দ্রে প্রার্থী করেছেন রবিউল আলমকে। তিনি একবার মনোনয়ন প্রত্যাহার করতেও গিয়েছিলেন। তারপর তিনি জানিয়েছেন তিনি এই নির্বাচনে লড়বেন। যাইহোক তাই নিয়ে হুমায়ুন কবীরের দাবি মমতার কথায় নয়, পুলিশের কথাতেই রবিউল আলম নির্বাচনে লড়াই করছেন। এই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার। কংগ্রেস প্রার্থী আব্দু্ল্লাহিল কাফি।

এই কেন্দ্রে বাম ঐক্যে ফাটল দেখা দিয়েছে। আর সেই কারণেই সিপিএম সায়েদ আসাদ আলিকে প্রার্থী করার পরেই আরএসপি বিকাশচন্দ্র মিশ্রকে প্রার্থী করেছে। এই কেন্দ্রে বিরোধীরা রীতিমত ছন্নছাড়া। আর সেই কারণে বিজেপির জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। তেমনই গুঞ্জন শুরু হয়েছে ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে।