'আমি পোস্টঅফিসও নই বা রাবার স্ট্যাম্পও নই'। বুধবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার সরিসায় সফরে এসে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল জগদীপ ধনখর বললেন, তাঁর সবথেকে বড় দায়িত্ব হল, রাজ্যে অবাধ ও সুষ্ঠু বিধানসভা নির্বাচন নিশ্চিত করা। তাৎপর্যপূর্ণভাবে সরিসা অঞ্চলটি ডায়মন্ড হারবার সংসদীয় কেন্দ্রের অন্তর্গত, যেখানে এসে দিন কয়েক আগেই আক্রান্ত হয়েছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা। এদিনও রাজ্যপালের সফর উপলক্ষ্যে প্রোটোকল মেনে পুলিশ বা প্রশাসনের বড় কর্তাদের উপস্থিত থাকতে দেখা যায়নি।

আরও পড়ুন - কৃষক আন্দোলনে আত্মঘাতি জনপ্রিয় শিখ সন্ত, সুইসাইড নোটে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

আরও পড়ুন - মমতা-র বিকল্প মুখ হতে পারেন শুভেন্দু, বিজেপিতে যাওয়া ছাড়া আর গতি নেই

আরও পড়ুন - বাবা জেলবন্দি, পালিয়েছে মা - ফুটপাতে নেমে আসা কিশোরকে ছেড়ে যায়নি শুধু পোষ্য কুকুর

২০১৯ সালে জুলাই মাসে রাজ্যপালের দায়িত্ব নিয়েছিলেন ঝনখর। তার আগের বছরই ছিল রাজ্যের পঞ্চায়েত নির্বাচন। সেই ভোটের কথা উল্লেখ করে রাজ্যপাল বলেন, সেই নির্বাচন সম্পর্কে সম্পূর্ণ তথ্য রয়েছে তাঁর কাছে রয়েছে। অন্তত ১২ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। বহু জায়গায় বিরোধী প্রার্থীদের মনোনয়নই দাখিল করতে দেয়নি ক্ষমতাসীন তৃণমূল, এমন অভিযোগও উঠেছিল।

এদিন জগদীপ ধনখর আরও বলেন পশ্চিমবঙ্গে রাজনীতির সঙ্গে প্রশাসন মিশে গিয়েছে। কিন্তু প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে নিরপেক্ষ করতে হবে। রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থাকাটা প্রত্যেক সরকারী কর্মচারীর বাধ্যবাধকতা বলেও জানান তিনি। আর সেই প্রশাসনকে নিরপেক্ষকরণের কাজটা তিনি করেই ছাড়বেন, বলে জোর দিয়ে জানিয়েছেন তিনি। তিনি আরও বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে ২০ জন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা রাজ্যে বিভিন্ন পদে রয়েছেন। তাঁরা মনে করছেন অবসরপ্রাপ্ত এবং চুক্তিতে রয়েছেন বলে, যা করছেন, তার জন্য তাঁদের দায়ী করা যাবে না। কিন্তু, সেই ধারণা ভুল।

রাজ্য সরকারের সমালোচনা করে ধনখর বলেন, 'এখানে যা ঘটছে তা দেশের আর কোথাও হচ্ছে না।' ডায়মন্ড হারবারে গত ১০ ডিসেম্বর জেপি নাড্ডার কনভয়ের উপর হামলার অভিযোগের কথা উল্লেখ করে রাজ্যপাল ধনখর বলেন ঘটনার যে বিবরণ তিনি জানতে পেরেছেন, তা 'অত্যন্ত উদ্বেগজনক'। কারোর নাম না করে তিনি বলেন, কেউ যেন নিজেকে কোনও এলাকার জাগিরদার না ভাবে। মুখ্যমন্ত্রীও আইনের শাসনের আওতায়। তাঁকে অবশ্যই আইনকে সম্মান করতে হবে, সংবিধানকে সম্মান করতে হবে।