গত বছরই রাজ্য সরকারের হাতে থাকা কলেজগুলিতে শিক্ষকদের স্থায়ী নিয়োগের ক্ষেত্রে মেডিক্যাল পরীক্ষা এবং পুলিশ ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক করেছিল উচ্চশিক্ষা দপ্তর। পরে অবশ্য প্রতিবাদের মুখে পড়ে সেই শর্ত তুলেও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, দপ্তরের সাম্প্রতিক নির্দেশিকায় ফের অস্বস্তিকর শারীরিক পরীক্ষা ও অপমানজনক পুলিশ ভেরিভিকেশন-এর শর্ত ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এই নিয়ে ফের প্রতিবাদে মুখর হচ্ছেন বিভিন্ন অদ্যাপক সংগঠন ও স্থায়ী পদে নিয়োগ প্রার্থীরা।

এই নির্দেশিকাটি এসেছে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি। তবে প্রকাশ্যে এসেছে চলতি সপ্তাহেই। সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কলেজগুলিতে যে সমস্ত সহকারী অধ্যাপক নিযুক্ত হচ্ছেন বা হয়েছেন, তাঁদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পুলিশি ভেরিফিকেশন সেরে ফেলা বাধ্যতামূলক। একই সঙ্গে করাতে হবে ডাক্তারি পরীক্ষাও। যারমধ্যে বেশ কিছু মহিলাদের পক্ষে অমর্যাদার বেশ কিছু বিষয় আছে বলেও অভিযোগ। সাফল্যের সঙ্গে প্রবেশনারি পিরিয়ড শেষ করলেও এই দুই বিষয়ের মধ্য দিয়ে যেতেই হবে কলেজ শিক্ষকদের।

আরও পড়ুন - বিকেলের পরই ব্রজবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা, এখনই কাটছে না দুর্যোগ

এই নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে শিক্ষক-শিক্ষিকা মহলে। সকলেই একযোগে বলছেন পুলিস ভেরিফিকেশনের শর্তটি শিক্ষকদের পক্ষে চরম অমর্যাদার। মেডিকাল যে সব পরীক্ষা করার কথা বলা হয়েছে, তাও অর্থহীন। এই নিয়ে অধ্যাপক সংগঠন ওয়েবকুটার সভাপতি শুভোদয় দাশগুপ্ত-এর দাবি রাজ্যের শিক্ষকদের হেনস্থা করতে একের পর এক নির্দেশিকা জারি করছে শিক্ষা দপ্তর। তাঁদের সংগছন এই নির্দেশিকার তীব্র বিরোধিতা করছে। ভালোভাবে পড়ে প্রয়োজনে তাঁরা শিক্ষামন্ত্রীর দ্বারস্থ হবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন - ক্লাসরুমে ঢুকে ছাত্রীদের সঙ্গে 'অশালীন আচরণ', প্রধানশিক্ষককে গাছে বেঁধে রাখল পড়ুয়ারাই

সংগঠনের আরেক কাছে সদস্যরে দাবি অনেকটা এনপিআর-এর ধাঁচে শিক্ষকরা পাঁচ বছর আগে কোথায় ছিলেন, ইত্যাদি তথ্য নেওয়া হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার যেখানে প্রকাশ্যে এনপিআর-এর বিরোধিতা করছে, তাঁর সেই অবস্থানের সঙ্গে তাঁরই সরকারের উচ্চশিক্ষা দপ্তরের নির্দেশিকার মিল থাকছে না। প্রয়োজনে তাঁরা বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যাবে বলে জানিয়ে দিয়েছে ওয়েবকুটা। শিক্ষকদের অমর্যাদার পাশাপাশি এই শর্ত আরোপে নিয়োগের প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ হয় বলে জানিয়েছেন অধ্যাপকরা।

আরও পড়ুন - সাদা কাগজে সই করিয়ে ৫ লক্ষ টাকা 'আত্মসাৎ', বর্ধমানে গ্রেফতার তৃণমূল নেতা

এর আগে গত সেপ্টেম্বরে শিক্ষক-শিক্ষিকাজের প্রদবল বিরোধিতার মুখে পড়ে কলেজ শিক্ষকদের স্থায়ী নিয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশন ও মেডিক্যাল সার্টিফিকেট জমা দেওয়ার শর্ত তুলে নিয়েছিল উচ্চ শিক্ষা দপ্তর৷ বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছিল, পুলিশ ভেরিফিকেশন ও মেডিক্যাল সার্টিফিকেট ছাড়া সরাসরিই নিয়োগপত্র সরাসরি পেয়ে যাবেন চাকরিপ্রার্থীরা৷