নিমতিতা বিস্ফোরণ কাণ্ডে ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। রাজ্যের শ্রম প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেনের উপর হামলার ঘটনায় তদন্তের গতি প্রকৃতি খতিয়ে দেখতে দিনভর শুক্রবার রাজ্য পুলিশের আইজি এমকে বার্মা সহ সেন্ট্রাল ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির কর্তা থেকে শুরু করে সিআইডি উচ্চ আধিকারিকেরা কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে বিস্ফোরণস্থল খতিয়ে দেখেন। তারপরেই চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে বলেই সূত্র মারফত জানা যায়। 

আরও পড়ুন, পায়ের অপারেশন শেষ জাকিরের, শরীরের ৩ জায়গায় হবে প্লাস্টিক সার্জারি, আজই নিমতিতা যাচ্ছে NIA  

 

 

সেক্ষেত্রে নিমতিতায় দেশি সাধারণ মানের কোনও বোমা বিস্ফোরণ হয়নি। বিস্ফোরণ হয়েছিল উন্নতমানের আইইডি ব্যবহার করে। নিমতিতা স্টেশনের খুঁটিনাটি চত্বর পর্যবেক্ষণ করছেন তদন্তকারীরা।তাৎপর্যপূর্ণভাবে তদন্তকারীরা এদিন নিমতিতায় রেললাইনের উপর থেকে বাইকের ব্যাটারির একটি অংশ উদ্ধার করেছেন। বিস্ফোরণস্থল থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে উদ্ধার হয়েছে একটি লোহার পাতও। আর তাতেই তদন্তকারীদের মনে প্রাথমিক ধারণা তৈরি হয়েছে, বুধবার রাতে রাজ্যের মন্ত্রীর উপর হামলা হয়েছিল উন্নতমানের আইডি দিয়েই।প্রসঙ্গত,  সিআইডি আধিকারিকরা ঘটনার সময়কার একটি ভিডিও ফুটেজ জোগাড় করতে সক্ষম হয়েছেন বলেই পুলিশ সূত্রে জানা যায়।

 

 

আরও পড়ুন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে মধ্যপিত্তের হেঁশেলে আগুন, শনি-রবি প্রতিবাদ মিছিল তৃণমূলের 

 যেখানে যাতে দেখা যাচ্ছে, মন্ত্রী জাকির হোসেন যখন প্ল্যাটফর্মে হাঁটছেন, তখন কেউ একজন সামনে পরিত্যক্ত ব্যাগ পড়ে আছে বলে তাঁকে সাবধান করেন। মন্ত্রীর অনুগামীদের মধ্যে কেউ একজন ব্যাগটি সরাতে গেলে বিস্ফোরণটি ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। সেই ফুটেজটি খতিয়ে দেখেই হামলার সময় কী ধরনের বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছে সেটা বোঝার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। ফরেনসিক আধিকারিকদের ধারণা, আজকের মধ্যেই মন্ত্রীর উপর হামলায় কী ধরনের বিস্ফোরক ব্যবহৃত হয়েছে, তা স্পষ্ট হয়ে যাবে।  নিমতিতা স্টেশনেই থাকবেন সিআইডি ও ফরেনসিক আধিকারিকরা। সেজন্য সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ফরাক্কা ধুলিয়ান, নিমতিতা, জঙ্গিপুর রুটে বন্ধ রাখা হয়েছে ট্রেন চলাচল।

আরও পড়ুন, ভোটের ডিউটি আসায় মানসিক চাপে আত্মঘাতী বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী, শোকের ছায়া রায়গঞ্জে 

 

 

অপরদিকে,  তৃণমূল সূত্রে শেষ পাওয়া খবরে জানা যায়,মন্ত্রী জাকির হোসেন এখন বিপন্মুক্ত। এখনও পর্যন্ত শরীর থেকে বিস্ফোরক বের করার জন্য ছোট বড় সব মিলিয়ে মোট ১৩টি অস্ত্রোপচার হয়েছে তাঁর। চিকিৎসক বোর্ড মনে করছে, রবিবার পর্যন্ত নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে জাকিরকে। সোমবার বা কয়েকদিন পরে হতে পারে তাঁর প্লাস্টিক সার্জারি। বিস্ফোরণে আহত আরও ১০ জনের অস্ত্রোপচার  পরবর্তীতে এঁদেরও প্রত্যেকের প্লাস্টিক সার্জারি হবে। এ বিস্ফোরণ নিয়ে জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার সুপার ওয়াই রঘুবংশি বলেন,'খুব গুরুত্ব সহকারে তদন্তের গতি চলছে । সবদিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এর বেশি কিছু এখন বলা সম্ভব নয়।'