বীরভূমের রামপুরহাট পুরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে কার্যত বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করতে চলেছে শাসক শিবিরের প্রার্থী। যদিও বিজেপির অভিযোগ পরিকল্পনা করে বাদ দেওয়া হচ্ছে বিজেপি প্রার্থীকে।

পুরসভায় (Municipality) চাকরি করায় বিজেপি প্রার্থীর (BJP Candidate) মনোনয়ন (Namonation) বাতিল। অন্যদিকে সিপিএম প্রার্থী (CPM Candidate) তৃণমূলে (TMC) যোগদান করায় বীরভূমের রামপুরহাট পুরসভার (Rampurhat Municipal Corporation) ৪ নম্বর ওয়ার্ডে কার্যত বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করতে চলেছে শাসক শিবিরের প্রার্থী। যদিও বিজেপির অভিযোগ পরিকল্পনা করে বাদ দেওয়া হচ্ছে বিজেপি প্রার্থীকে। রামপুরহাট পুরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড দীর্ঘদিন থেকে তৃণমূলের দখলে রয়েছে। এবার ওই ওয়ার্ড তপসিলি মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত হওয়ায় প্রার্থী হতে পারেননি তিনবারের কাউন্সিলর, বিদায়ী উপপ্রশাসক আব্বাস হোসেন।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

দল তাকে অন্য ওয়ার্ডে প্রার্থী না করায় তিনি কংগ্রেসে যোগদান করেছিলেন। রাত পোহাতেই তিনি ফের তৃণমূলে ফেরেন। ওই ওয়ার্ডে এবার তৃণমূলের টিকিটে প্রার্থী হয়েছেন তুফানি মাল। ওই ওয়ার্ডের সিপিএম প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন জমা দেন রূপা হাজরা। বিজেপির প্রতীকে দাঁড়িয়েছিলেন হেমা হরিজন। বৃহস্পতিবার মনোনয়ন স্কুটিনি করতে গিয়ে বিজেপি প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়ে যায়। রামপুরহাট মহকুমা শাসক সাদ্দাম নাভাস বলেন, “ওই প্রার্থী রামপুরহাট পুরসভায় চাকরি করেন। কিন্তু তিনি পুরসভা থেকে নো-অবজেকশন কাগজ জমা দেননি। তাই তাঁর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে”।

হেমা হরিজন বলেন, “আমি মাসে ১৯৭৮ টাকা পুরসভা থেকে পাই। আমার কোন নিয়োগপত্র নেই। সকালে শহরে ঝাঁট দিয়ে ওই সামান্য টাকা পাই। চক্রান্ত করে আমার মনোনয়ন বাদ দিল। প্রশাসন আমাকে নিয়োগপত্র দেওয়ার ব্যবস্থা করুক। এছাড়া একজন ঝাড়ুদারের যে বেতন তাও সম্পূর্ণ মিটিয়ে দিতে হবে। তা না হলে আমি উচ্চ আদালতে যাব”।

রামপুরহাট বিধায়ক, বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমরা কারও মনোনয়ন বাতিল করিনি। নির্বাচনী আধিকারিক নিয়ম মেনে যা করার করছেন। আমরা মনোনয়ন বাতিল করার কেউ নই”।

আরও পড়ুন- 'চক্রান্ত' করে চিকিৎসককে পাঠানো হচ্ছে সেফহোমে, বিএমওএইচ-কে ঘিরে বিক্ষোভ স্থানীয়দের

এদিকে, ২২ জানুয়ারি রাজ্যের চারটি পুরনিগমে ভোট হবে। তার মধ্যে বিধাননগর, চন্দননগর, শিলিগুড়ি ও আসানসোলে পুরোভোট হবে। আর এগুলির ফলপ্রকাশ হবে ২৫ জানুয়ারি। কিন্তু, রাজ্যের বাকি পুরসভাগুলিতে ভোটের দিন এখনও পর্যন্ত ঘোষণা করা হয়নি। তবে ভোটের দিন ঘোষণা না হলেও প্রস্তুতিতে কোনও খামতি রাখছে না কোনও রাজনৈতিক দলই। সংগঠনকে চাঙ্গা করার কাজে প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে সমান তালে। বিজেপি থেকে শুরু করে, তৃণমূল, কংগ্রেস ও বামেরা ঝাঁপিয়ে পড়েছে সবাই।

আরও পড়ুন, 'পশ্চিমবঙ্গ গণতন্ত্রের গ্যাস চেম্বার-আক্রান্ত বিজেপি বিধায়ক মিহির', বিস্ফোরক শুভেন্দু

পুরভোটের (Municipal Election) দামামা বেজে গিয়েছে। রাজ্যের চার পুরনিগমের ভোটের পরই বকেয়া পুরসভায় ভোট হবে। আর সেই কারণেই শাসকদল (TMC) থেকে শুরু করে বিরোধীরা এখন জোরকদমে প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে সব রাজনৈতিক দলগুলি। আসলে এই সময় প্রস্তুতিতে কোনও খামতি রাখতে চাইছেন না তাঁরা।