পাতে পেতে কালঘাম ছুটছে। তাই মহার্ঘ্য পেঁয়াজের বোকে নব দম্পতিকে উপাহার দিলেন তৃণমূলের কাউন্সিলর। নিমন্ত্রণে এসে শাড়ি গয়নার পরিবর্তে ঝাঁঝালো পেঁয়াজকেই বেছে নিলেন কুলটির তৃণমূল কাউন্সিলর সাধন পাল। প্রায় পাঁচ কেজির পেঁয়াজ ও পেঁয়াজ কলি দিয়ে সুন্দর সাজানো বোকে দেখে অবাক বিয়েতে আসা অতিথিরা। 

শনিবার কুলটি ক্লাবে বিয়ের রিসেপশন হয় অমিত যাদব ও অদিতি যাদবের। আসানসোলে পুরনিগমের ১০৩ নম্বর ওয়ার্ডের কুলটি বিড়লা রোডের বাসিন্দা ওই দম্পতি। ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসাবে শনিবার রাতে নিমন্ত্রণ ছিল কাউন্সিলর সাধন পালের। এদিন পেঁয়াজের দাম ছিল ১২০ থেকে ১৩০ টাকা। জানা গেছে,পেঁয়াজ দিয়ে সাজিয়ে যে বোকেটি তৈরি হয়েছে,তার মূল্য প্রায় ৬০০ টাকার মতো। 

এই বিষয়ে কাউন্সিলর সাধন পাল বলেন,পেঁয়াজ এখন মহার্ঘ্য। প্রতিদিন বাজারে হা হুতাশ হচ্ছে দাম নিয়ে। সোশ্যাল মিডিয়ায় সোনার সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে পেঁয়াজকে। তাই একটু অন্যরকম উপহার অথচ উপকারি উপহার হিসেবে পেঁয়াজের কথা মাথায় আসে। পাশাপাশি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোটাও উদ্দেশ্য ছিল। বিয়েতে পেঁয়াজ পেয়ে নব দম্পতি অমিত ও অদিতি বলেন,খবরে এই ধরনের ঘটনা শুনেছি। নিজের ক্ষেত্রে এমন অভিজ্ঞতা হবে ভাবিনি। এমন উপহার পেয়ে বেশ অন্য ধরনের অনুভূতি হচ্ছে। 

পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বলেন,খাবারের স্বাদ বাড়াতে পেঁয়াজের জুড়ি নেই। উপকারী তা নিয়ে সন্দেহ নেই। বৌভাতের পরেও বাড়িতে কয়েকদিন লোকজন থাকবে। তরকারি থেকে মাছ-মাংস রান্নায় এই পেঁয়াজের অনেকখানিই ব্যবহার করা যাবে।  উল্লেখ্য টোম্যাটোর অস্বাভাবিক দামের প্রতিবাদে টোম্যাটোর গয়না পড়েছিলেন এক পাকিস্তানি মহিলা। মহিলার সেই বিয়ের ছবি ছড়িয়ে পড়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। দাবি ছিল, টোম্যাটোর অস্বাভাবিক দামের প্রতিবাদেই এই গয়না তৈরি হয়েছিল। কুলটিতে বিয়ে বাড়িতে পেঁয়াজ উপহার দেওয়ার অর্থ সেরকমই প্রতিকী প্রতিবাদ।