PM Modi: বীরভূমের সভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে 'জঙ্গলরাজ' চলছে। 'মা, মাটি, মানুষ' স্লোগানকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, বাংলায় মা কাঁদছে, মাটি অনুপ্রবেশকারীদের দখলে আর মানুষ ভয়ে কাঁটা হয়ে আছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বৃহস্পতিবার তৃণমূল কংগ্রেসকে 'জঙ্গলরাজ' চালানোর জন্য অভিযুক্ত করেছেন। রাজ্যের শাসকদলকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, তৃণমূল 'মা, মাটি, মানুষ'-এর কথা বলে, কিন্তু তাদের শাসনে 'মা কাঁদছে, মাটি অনুপ্রবেশকারীদের দখলে চলে গেছে আর মানুষ ভয়ে কাঁটা হয়ে আছে'। এখানকার এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এক 'ভয়মুক্ত' সমাজের স্বপ্ন দেখেছিলেন, কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস ঠিক তার উল্টো পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
তৃণমূলকে নিশানা মোদীর
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এমন এক সমাজ দেখতে চেয়েছিলেন যেখানে সবাই ভয়মুক্ত থাকবে। কিন্তু তৃণমূলের জঙ্গলরাজ ঠিক তার উল্টো কাজ করেছে। ওরা 'মা, মাটি, মানুষ'-এর কথা বলেছিল, কিন্তু আজ মা কাঁদছে, অনুপ্রবেশকারীরা মাটি দখল করছে, আর মানুষ আতঙ্কিত, ভীত।"
তিনি অভিযোগ করেন যে "তৃণমূলের সিন্ডিকেট" এই অনুপ্রবেশকারীদের জাল সরকারি নথি পেতে সাহায্য করছে।
মোদী বলেন, "পশ্চিমবঙ্গের জমিতে অনুপ্রবেশকারীদের দখলদারি পর্যায়ে পৌঁছেছে। তৃণমূলের সিন্ডিকেট এই অনুপ্রবেশকারীদের জাল সরকারি নথি পেতে সাহায্য করছে। প্রতিবেশী অঞ্চল থেকে অনুপ্রবেশকারীরা এসে রাজ্যের মধ্যে বসতি স্থাপন করছে।" তিনি আরও বলেন, "আজ আমি বাংলার মানুষকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। বাংলায় বিজেপি সরকার গঠিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যারা অনুপ্রবেশে সাহায্য করে, তাদের বিরুদ্ধে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হবে। এটা আপনাদের প্রতি আমার গ্যারান্টি। তারা যতই শক্তিশালী হোক না কেন, তাদের চিহ্নিত করে জেলে পাঠানো হবে।"
বগটুইকাণ্ড মোদীর মুখে
২০২২ সালের বগটুই কাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ওই ঘটনায় একটি গ্রামে কয়েকটি বাড়িতে আগুন লাগিয়ে আটজনকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়েছিল। মোদী এই ঘটনাকে "মানবতার উপর কলঙ্ক" বলে অভিহিত করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, "আমাদের বীরভূম তৃণমূলের জঙ্গলরাজের সাক্ষী। বগটুইতে যা ঘটেছিল তা শুধু একটি ঘটনা নয়; এটি মানবতার উপর একটি কলঙ্ক। নিরীহ মহিলা ও শিশুদের জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়েছিল। এটা যদি জঙ্গলরাজ না হয়, তবে কী?" অভিযোগ, তৃণমূলের স্থানীয় নেতা ভাদু শেখের খুনের বদলা নিতেই এই হিংসার ঘটনা ঘটেছিল।


