রাজ্যে ফের আক্রান্ত পুলিশ। এবার উত্তর চব্বিশ পরগণার সন্দেশখালিতে। রুটিন টহলদারি চালানোর সময় দুই কুখ্যাত দৃষ্কৃতী হামলা চালায় পুলিশের উপরে। ঘটনায় একজন এসআই পদমর্যাদার অফিসার ছাড়াও একজন ভিলেজ পুলিশ ও এক সিভিক ভলেন্টিয়ার  গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহত দুই ভিলেজ পুলিশ এবং সিভিক পুলিশকর্মীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁদেরকে কলকাতার একটি নার্সিং হোমে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। এছাড়াও পুলিশের গাড়িতে থাকা থানারই এক কর্মীও আহত হয়েছেন বলে খবর।

শুক্রবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর চব্বিশ পরগণার বসিরহাট মহকুমার সন্দেশখালির খুলনা গ্রামে। পুলিশ সূত্রে খবর, রাত সাড়ে দশটা নাগাদ সন্দেশখালি থানার এসআই অরিন্দম হালদারের নেতৃত্বে থানার একটি দল গাড়িতে করে এলাকার রুটিন তল্লাশিতে বের হয়। সেই সময় খুলনা গ্রামের মধ্যেই মদ্যপান করছিল কেদার সর্দার ওওই বিধান সর্দার নামে দুই দুষ্কৃতী। পুলিশের গাড়ি তাদের দিকে এগোতেই আচমকা ওই দুই দুষ্কৃতী আচমকা গুলি চালাতে শুরু করে বলে অভিযোগ। পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে বোমাও ছোড়ে তারা। তাতেই আহত হন এসআই- সহ চারজন। গুলি লেগে আহত হন গাড়ির সামনের আসনে বসে থাকা এসআই অরিন্দম হালদার। এছাড়াও গুরুতর আহত হন বাবুসোনা সিং ও বিশ্বজিৎ মাইতি নামে এক সিভিক ভলেন্টিয়ার এবং একজন ভিলেজ পুলিশ। থানারই অস্থায়ী কর্মী গ্রামের বাসিন্দা এক যুবকও দুষ্কৃতী হামলায়  জখম হন। 

আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে খুলনা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু বাবুসোনা ও বিশ্বজিতের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের কলকাতার একটি নার্সিংহোমে স্থানান্তরিত করা হয়। ভোর রাতেই ওই এলাকায় ফের অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত দুই দুষ্কৃতীকেই আগ্নেয়াস্ত্র- সহ গ্রেফতার করে পুলিশ। এলকায় গিয়েছেন বসিরহাট পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার কঙ্করপ্রসাদ বারুই। 

সূত্রের খবর, ধৃত দুই দুষ্কৃতী সুন্দরবন এলাকার ত্রাস শেখ শাহজাহানের দলের সদস্য। প্রত্যেকেই শাসক দলের ঘনিষ্ঠ বলে অভিযোগ। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরেই শাসক দলের ছত্রছাত্রায় চলে আসে একদা সিপিএম ঘনিষ্ঠ শেখ শাহজাহান। শুক্রবার পুলিশের উপরে হামলা চালানোয় অভিযুক্ত দুই দুষ্কৃতী কেদার এবং বিধান সম্পর্কে দুই ভাই। খুলনা এলাকায় শেখ শাহজাহানের হয়ে কাজ করত কেদার এবং তার ভাই বিধান।