আশিষ মণ্ডল, বীরভূম:  তৃণমূলের জেলা সভাপতি, এমনকী থানার ওসি-কে হুমকি! বীরভূমে দলের জেলা সভাপতি-সহ দুই বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে এবার জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করল পুলিশ।

আরও পড়ুন: বিজেপির নতুন রাজ্য় কমিটিতে নাম নেই তথাগত রায়ের, স্থায়ী পদে শোভন

ঘটনার সূত্রপাত ৪ সেপ্টেম্বর। বীরভূম জেলা জুড়ে সেদিন 'গণতন্ত্র দিবস বাঁচাও' পালন করে বিজেপি। জেলার তিনটি মহকুমাশাসকের দপ্তরে  সামনে অবস্থান বিক্ষোভ চলে দিনভর। দলের কর্মসূচিতে সামিল হন দলের দলের জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল ও জেলা কমিটির সদস্য মানস বন্দ্যোপাধ্যায়। জনসভায় ভাষণ দিতে দিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য় করে বসেন দু'জনেই। 

বিজেপি-এর বীরভূম জেলার কমিটির সদস্য মানস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'আর কিছুদিন পর মানুষের আশীর্বাদে রাজ্যে ক্ষমতায় আসছে বিজেপি। তখন হনুব্রতবাবু (অনুব্রত মণ্ডল) আপনি মৃত্যু ভয় কাকে বলে বুঝতে পারবেন। বিজেপির জয়ের পর সর্বত্র গেরুয়া আবির খেলা হবে। আর আপনাকে একটি যন্ত্রচালিত ভ্যানে বাঁধা হবে। পিছনে থাকবে রাস্তা নির্মাণের রোলার গাড়ি। মাঝে মাঝে যন্ত্রচালিত ভ্যান দাঁড়িয়ে যাবে আর রোলার এগিয়ে যাবে। সেদিন বুঝবেন মৃত্যুভয় কাকে বলে।' আর বিজেপি জেলা সভাপতি শ্যামপদ গড়াই? তাঁর নিশানায় ছিলেন নলহাটির থানার ওসি দেবব্রত সিনহা।তিনি বলেন,  'ভদ্রপুরে এক তৃণমূল নেতার ছেলে ভিলেজ পুলিশ বিজেপিতে যোগদান করেছিলেন। তাকেনলহাটি থানার ওসি দেবব্রত সিনহা সাসপেন্ড করেছে। ওই ওসিকে আমি পায়ের নখ থেকে মাথার চুল পর্যন্ত চিনি। ২১ সালে আমরা ক্ষমতায় আসছি। তখন ওই পুলিশ অফিসারকে ইঁদুরের গড়তে কিংবা আকাশে থাকলেও সেখান থেকে টেনে নামিয়ে নাকে দড়ি বেঁধে ঘোরাব।'

আরও পড়ুন: 'ওঠ-বোস করবেন মুখ্যমন্ত্রী, দুর্গাপুজো নিয়ে বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ

বিজেপি জেলা সভাপতি ও জেলা কমিটির সদস্যের বিরুদ্ধে রামপুরহাট থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তোতা শেখ নামে এক ব্যক্তি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। মানসবাবু বলেন, 'ওদের নেতারাও আমাদের হাত পা ভেঙে দেওয়া হুমকি দিয়েছিল। কিন্তু আমরা কোথাও অভিযোগ জানায়নি। এখন তৃণমূল ভয় পেয়েছে। তাই অভিযোগ করছে। আর স্বাস্থ্যবিধি মানার যে অভিযোগ করছে শাসক দল তারা নিয়ম মানছে তো?'