আশঙ্কা ছিলই। করোনা ভাইরাস শেষপর্যন্ত ঢুকে পড়ল বাংলায়ও! এ রাজ্যে যিনি মারণ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁর হদিশ মিলেছে খাস কলকাতাতেই। সংক্রমণ ঠেকাতে তৎপর দক্ষিণ ২৪ পরগণার রাজপুর-সোনারপুর পুরসভা। কাউন্সিলর ও পুর আধিকারিকদে সঙ্গে বৈঠক করেছেন পুরসভার চেয়ারম্যান পল্লবকান্তি দাস। বৈঠকে হাজির ছিলেন খোদ বিশ্ব স্বাস্থ্য বা WHO-এর মেডিক্যাল অফিসারও। পরিস্থিতি মোকাবিলায় একাধিক সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করা হয়েছে পুরসভার তরফে। 

আরও পড়ুন: পশ্চিমবঙ্গে করোনার ছবিটা কেমন, দেখে নিন এক ঝলকে

কলকাতা থেকে দূরত্ব খুব বেশি নয়। রাজপুর-সোনারপুর প্রতিটি অফিসে বসানো হয়েছে স্ক্যানার মেশিন। পুরসভার নিজস্ব অডিটোরিয়াম, সুইমিং পুল, ক্রিকেট ও ফুটবল কোচিং সেন্টার তো বটেই, বুধবার থেকে বন্ধ থাকবে এলাকার সমস্ত পার্কও।  বিলি করা হচ্ছে স্যানিটাইজার। পুরসভার সূত্রে খবর, গত কয়েক দিন বাইরে থেকে এলাকায় এসেছেন ৩৬ জন। তাঁদের সকলকেই পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে। রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার চেয়ারম্যান পল্লবকান্তি দাস জানিয়েছেন, করোনা ভাইরাস প্রতিহত করতে যা যা ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, সবই নেওয়া হচ্ছে পুরসভার তরফে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন: করোনা আতঙ্ক মুর্শিদাবাদে, আরব ফেরত হজ যাত্রীদের বাড়ি বাড়ি পৌঁছল বিশেষ মেডিকেল টিম

প্রতিষেধক নেই, ভরসা সচেতনতা। করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে মাস্ক পরার ও বারবার হাত ধোয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ২০০ কোটি টাকা তহবিল গড়ার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ থাকবে স্কুল, কলেজ ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলি।এরইমধ্যে আবার মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কলকাতায় ইংল্যান্ড ফেরত এক তরুণের শরীরে করোনা ভাইরাসের সন্ধান মিলেছে। বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে ভর্তি তিনি। পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে আক্রান্তের পরিবারের লোকেদেরও। এখনও পর্যন্ত যা খবর, বিলেতে বান্ধবীর থেকে সংক্রমণের কবলে পড়েছেন ওই তরুণ। শুধু তাই নয়, শরীরে করোনার সংক্রমণ নিয়ে শহরের বিভিন্ন জায়গায় আবার ঘুরেও বেরিয়েছেন তিনি। তাঁর গন্তব্যের খোঁজ চালাচ্ছেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা।