Ice Apple: গরমকালে বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় খাবার তালশাঁস। সব বয়সের মানুষই তালশাঁস খেতে ভালোবাসেন। গ্রামের পাশাপাশি শহরাঞ্চলেও বহু মানুষ গরমের হাত থেকে সাময়িক রেহাই পাওয়ার জন্য তালশাঁস খান। কিন্তু এবার এই তালশাঁস নিয়েই সতর্ক করে দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

DID YOU
KNOW
?
তালশাঁস বিক্রি বাড়ছে
গরম পড়তেই বিভিন্ন জেলায় তালশাঁসের বিক্রি বাড়ছে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলাতেও তালশাঁস বিক্রি হচ্ছে।

Health News: দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে তীব্র গরম। গরমে নাজেহাল সাধারণ মানুষ। গরম থেকে বাঁচতে মানুষ খাদ্যাভ্যাস বদলে ফেলেছে। তীব্র গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে একদিকে যেমন নানা ধরনের পানীয় বাজারে বিক্রি হচ্ছে, ঠিক তেমনই একেবারে প্রাকৃতিক উপাদান তালশাঁসের বিক্রিও বেড়েছে। বিভিন্ন বাজারের রাস্তার পাশে বসেছেন তালশাঁস বিক্রেতারা। সারা বছর অন্যান্য পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও এই গরমকালে বাড়তি লাভের আশায় তালশাঁস বিক্রি করেন। তালশাঁস শরীরের পক্ষে উপকারী। তবে কেনার আগে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখার পরামর্শ দিয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা স্বাস্থ্য দফতরের আয়ুষ বিভাগ।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

কেন সতর্কবার্তা চিকিৎসকদের?

এই সময় তালশাঁস খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলা আয়ুষ বিভাগের স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ প্রকাশ হাজরা। তিনি জানিয়েছেন, 'গরমের সময় তালশাঁস অত্যন্ত উপকারী। এতে প্রচুর জলীয় অংশ থাকে, যা শরীরের জলশূন্যতা রোধে সাহায্য করে। ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে যাওয়া জল ধরে রাখতেও এটি কার্যকর। তবে বর্তমানে ইবোলা ভাইরাস (Ebola virus) নিয়ে সচেতন থাকা জরুরি। তালশাঁস কেনার সময় গায়ে কোনও ক্ষত রয়েছে কি না, তা খেয়াল রাখতে হবে। অনেক সময় তালগাছে বাদুড় থাকে। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে তালশাঁস কেনা উচিত। একই সতর্কতা লিচুর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে।' যদিও জেলায় এখনও পর্যন্ত ইবোলা সংক্রমণের কোনও ঘটনা ধরা পড়েনি, তবু গরমের মরসুমে সচেতন থাকার পরামর্শ দিচ্ছে স্বাস্থ্য দফতর। কয়েক মাস আগে রাজ্যে নিপা ভাইরাস (Nipah virus) সংক্রমণ ধরা পড়েছিল। এই কারণেও তালশাঁস নিয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।

সতর্কতা সত্ত্বেও বাড়ছে বিক্রি

সাদা, নরম, রসাল ও তুলতুলে এই শাঁস শরীর ঠান্ডা রাখতে অত্যন্ত উপকারী। তালশাঁসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে জলীয় অংশ। পাশাপাশি অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট, ভিটামিন, ফাইবার ও বিভিন্ন খনিজ উপাদান। গরমে আইসক্রিম বা কোল্ড ড্রিঙ্কের বদলে অনেকেই এখন তালশাঁস খেতে বেশি পছন্দ করছেন। চিকিৎসকদের মতে, ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি কমাতে এবং শরীরে জলের ঘাটতি পূরণে তালশাঁস কার্যকর ভূমিকা নেয়। চলতি বছর গরম পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তমলুক, নন্দকুমার ময়না হলদিয়া শহর জেলার বিভিন্ন প্রান্তে রাস্তার পাশে তালশাঁস নিয়ে বসছেন বিক্রেতারা। তাঁদের কথায়, এ বছর তালশাঁসের চাহিদা তুলনামূলক অনেক বেশি। তমলুকের নিমতৌড়িতে এক বিক্রেতা কুমার হাইত জানান, 'সারা বছর ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করি। কিন্তু গরমকালে বাড়ির সবাইকে নিয়ে তালশাঁস বিক্রি করি। গ্রামবাংলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কচি তাল এনে কেটে বিক্রি করছি। দাম ৫ টাকা থেকে ৮ টাকা রয়েছে। এখন তালশাঁসের চাহিদা এতটাই বেড়েছে যে জোগান দিতে হিমসিম খেতে হচ্ছে।'

আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।