পয়লা বৈশাখের দিন নন্দীগ্রামে প্রভাত ফেরি করলেন বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী। ১৫ বছরের 'চোর'-এর শাসনের পর এবার 'রাম'-কে একটা সুযোগ দেওয়ার আর্জি জানালেন তিনি। অন্যদিকে, বিজেপির স্মৃতি ইরানি এবং তৃণমূলের কুণাল ঘোষও রাজ্যে প্রচার চালিয়েছেন।
বাংলা নববর্ষ পয়লা বৈশাখের দিন রাজ্য জুড়ে ভোটের উত্তাপ। এর মধ্যেই বুধবার নন্দীগ্রামে 'প্রভাত ফেরি'-তে যোগ দিলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী।
নন্দীগ্রামে প্রচুর মানুষ শুভেন্দুকে মালা পরিয়ে স্বাগত জানান। এরপরই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে 'রাম'-কে একটা সুযোগ দেওয়ার জন্য আবেদন করেন তিনি। নাম না করে তৃণমূলকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ১৫ বছর ধরে 'চোরেরা' রাজ্য শাসন করেছে, এবার বদলের সময় এসেছে। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অধিকারী বলেন, "১৫ বছর চোরেরা শাসন করেছে। ৩৫ বছর বামেরা শাসন করেছে। একবার 'রাম'-কে সুযোগ দিন।"
অন্যদিকে, হুগলির চুঁচুড়ায় রোড শো করেন বিজেপি নেত্রী স্মৃতি জুবিন ইরানি। গাড়িতে দাঁড়িয়ে জনতার উদ্দেশে হাত নাড়েন তিনি, তাঁকে ঘিরে ছিল প্রচুর মানুষের ভিড়। আবার কলকাতার বেলেঘাটায় ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে একটি র্যালি বের করেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তিনি দাবি করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে রীতিমতো ঢেউ উঠেছে। কুণাল বলেন, "আমরা এখন বেলেঘাটার ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে আছি... সবাই বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসেছেন এবং প্রত্যেকের সমর্থন দিদির দিকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটা ঢেউ চলছে।"
গুরুত্বপূর্ণ লড়াই এবং ভোটের প্রেক্ষাপট
শুভেন্দু অধিকারী এবার দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এবং দুটি ক্ষেত্রেই তৃণমূলের হেভিওয়েট প্রার্থীদের বিরুদ্ধে লড়ছেন। নন্দীগ্রামে তিনি তৃণমূলের পবিত্র করের বিরুদ্ধে নিজের আসন ধরে রাখার লড়াইয়ে নেমেছেন। অন্যদিকে, ভবানীপুরে তাঁর প্রতিপক্ষ খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শুভেন্দু অধিকারী পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে একজন পরিচিত মুখ। ২০১৬ সালের নির্বাচনে তিনি তৃণমূলের টিকিটে নন্দীগ্রাম থেকে জয়ী হয়েছিলেন।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে রাজ্যে আট দফায় হওয়া গত বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ২১৩টি আসন পেয়ে বিপুল জয়লাভ করেছিল। বিজেপির সঙ্গে তীব্র লড়াইয়ের পর তাদের আসন সংখ্যা বেড়ে ৭৭ হয়েছিল। গত রাজ্য নির্বাচনে কংগ্রেস এবং বামফ্রন্ট একটিও আসন পায়নি। পশ্চিমবঙ্গে আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ হবে। ফল গণনা হবে ৪ মে।


