পেঁয়াজের থেকে সস্তা আপেল। তাই পেঁয়াজ নয়, ঘুগনি, চপ, মুড়ির সঙ্গে পাতে পড়ছে আপেলের কুচি। পেঁয়াজের বেলাগাম মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে এভাবেই প্রতিবাদের রাস্তায় হাঁটলেন ঘাটালের এক চা দোকানি। 

পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালের আলামগঞ্জে ছোট্ট খাবারের দোকান চালান সঞ্জীব বারিক। প্রতিদিন তাঁর দোকানে চা, মুড়ি, ঘুগনি এবং আলুর দম খেতে ভিড় জমান পথচলতি মানুষ। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরেই যাঁরাই সঞ্জীববাবুর দোকানে এসে যাঁরাই ঘুগনি, আলুর দম বা চপ- মুড়ির মতো পদ চেয়ে নিয়েছেন, তাঁরা রীতিমতো চমকে উঠেছেন। কারণ পেঁয়াজের বদলে খাবারের সঙ্গে মিলেছে কিছুটা করে আপেলের কুচি। 

ঘুগনি, আলুর দম বা চপ- মুড়ির সঙ্গে পেঁয়াজের বিকল্প হিসেবে আপেল কতটা কার্যকরী, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। আসলে পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদেই এই পথ বেছে নিয়েছেন সঞ্জীব। ক্রেতাদের পাতে পেঁয়াজ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে ক্রেতাদের কিছুটা করে আপেল খাইয়ে দিচ্ছেন এই দোকানি। 

আরও পড়ুন- সত্যি সত্যি ২০০ ছুঁল পেঁয়াজের দাম, ৪২০ ধারায় মামলা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বিরুদ্ধে

আরও পড়ুন- ছুঁতে পারছে না সাধারণ মানুষ, পেঁয়াজের মালা পরে মেদিনীপুরে প্রতিবাদে নেতারা

সঞ্জীববাবু বলেন, 'কুড়ি বছর ধরে দোকান চালাচ্ছি। কিন্তু কখনও দেড়শো টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ কিনতে হয়নি। বাজারে আপেল বিক্রি হচ্ছে ষাট, সত্তর টাকা কেজিতে। আমাদের ছোট দোকানদাররা কী করবে বলুন? পেঁয়াজের দাম বেড়েছে বলে তো খাবারের দাম বাড়াতে পারছি না। তাই পেঁয়াজের পরিবর্তে সবাইকে আপেল খাইয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছি।'

পেঁয়াজের বদলে আপেল খেতে ভাল লাগুক না লাগুক, অভিনব এই প্রতিবাদ দেখতে সঞ্জীবের দোকানে ভিড় জমাচ্ছেন অনেকেই। ফলে বেশ কিছুটা বিক্রিও বেড়েছে গত কয়েকদিনে। তবে যাঁরা নিয়মিত সঞ্জীববাবুর দোকানে নিয়মিত খেতে আসেন, তাঁরা এই প্রতিবাদকে সমর্থনই করছে। তাঁরাও চাইছেন, সরকারের হস্তক্ষেপে অবিলম্বে পেঁয়াজের দাম আমজনতার নাগালের মধ্যে আসুক।