আশিষ মণ্ডল, বীরভূম:  করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি মিলবে কবে! সম্ভাব্য প্রতিষেধক নিজের শরীরে পরীক্ষার সম্মতি দিলেন আরও এক শিক্ষক। দিল্লির এইমস-এ লিখিত আবেদন পাঠিয়ে দিয়েছেন তিনি। এখন স্রেফ ডাক আসার অপেক্ষা।

আরও পড়ুন: করোনা সংক্রমণের আশঙ্কায় স্থানীয়দের বাধার মুখে বিডিও, পুলিশের সাহায্যে ঢুকলেন বাড়িতে

দিন কয়েক আগে কোভিড-১৯-এর সম্ভাব্য প্রতিষেধক পরীক্ষার জন্য ডাক পেয়েছেন দুর্গাপুরের শিক্ষক চিরঞ্জিৎ ধীবর। এবার আবেদন করলেন বীরভূমের নলহাটির বুজুং বিষ্ণুনারায়ণ আদর্শ শিক্ষাপীঠ স্কুলের শিক্ষক মোহন সিনহা। আদি বাড়ি বর্ধমান জেলায়, কর্মসূত্রে রামপুরহাটে থাকেন। ছাত্র-ছাত্রীদের শারীরশিক্ষা পড়ান মোহন।

মোহন সিনহার জন্মভিটে পানাগড়ে। বাবা বাসুদেব সিনহা দুর্গাপুর এমএএমসিতে চাকরি করতেন ছিলেন। মা মায়া অধিকারী সিনহা ছিলেন শিক্ষিকা। দুই ভাই ও বাবা মা সকলেই মৃত্যুর পর দেহদানের অঙ্গীকার করেছেন। সেই মতো মায়ের মৃত্যুর পর কর্নিয়া এবং দেহ বর্ধমান মেডিক্যাল হাসপাতালে দেওয়া হয়েছে। রামপুরহাট শহরে স্ত্রী ও মেয়ে-কে নিয়ে ভাড়াবাড়িতে থাকেন মোহন। স্রেফ শিক্ষকতাই নয়, আরএসএস-র সক্রিয় কর্মী ও বিজেপি-র শিক্ষা সেলের কনভেনর তিনি।

আরও পড়ুন: রাজ্যে বাড়ছে করোনা দাপট, আক্রান্ত হলেন আরও এক তৃণমূল বিধায়ক

শারীরবিদ্যার শিক্ষক মোহন সিনহা জানালেন, 'চলতি বছরের মে মাসে আবেদন করেছিলাম। আবেদনের সঙ্গে শরীরের সুস্থতার শংসাপত্রও দিয়েছি। এখনও ডাক আসেনি।' স্ত্রী ও মেয়ের থাকতে কেন এমন ঝুঁকি নিলেন? জবাব আসে, ' ছোট থেকে ইচ্ছে ছিল সেনাবাহিনীতে যোগদান করে পরমবীর চক্র পাওয়ার। যেটা মৃত্যুর আগে পাওয়া যায় না। সেটা হয়নি, কারণ মায়ের ইচ্ছা ছিল শিক্ষকতা করি। পুলিশের চাকরিও ছেড়ে দিই। মায়ের ইচ্ছে পূরণ করতে শিক্ষকতায় যোগদান করি। তবে দেশের প্রতি আমার যে ভালোবাসা তা ভুলতে পারিনি। তাই সংকীর্ণ স্বার্থ ত্যাগ করে বিশ্বের পরিবারের জন্য আমি এগিয়ে এসেছি। আমি প্রস্তুত রয়েছি। ডাক পেলেই পৌঁছে যাব যেখানে যেতে বলা হবে।'